
ওয়াশিংটন, ১৭ জুলাই – ইতিহাসের বৃহত্তম ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা নামার পর এখন চলছে এর অর্থনৈতিক লাভ লোকসানের চুলচেরা বিশ্লেষণ। দলের সংখ্যা এবং ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এবারের আসর যেমন দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, তেমনি তৈরি হয়েছিল বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল বাণিজ্যিক ক্ষেত্র।
মাঠের লড়াইয়ে খেলোয়াড়রা নৈপুণ্য দেখালেও মাঠের বাইরে অর্থের এই লড়াইয়ে সবার অভিজ্ঞতা সমান হয়নি। কেউ যেমন অঢেল মুনাফা পকেটে পুরেছেন, তেমনি বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে অনেক পক্ষকে। আর্থিক এই মহাযজ্ঞে সবচেয়ে বড় বিজয়ী পক্ষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
কাতার বিশ্বকাপের সব রেকর্ড ভেঙে উত্তর আমেরিকার এই আসর থেকে তাদের আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সম্প্রচার স্বত্ব এবং টিকিট বিক্রির পাশাপাশি পুনঃবিক্রয় বাজারে ১৫ শতাংশ ফি আরোপ করে সংস্থাটি বড় অংকের মুনাফা করেছে। খেলার মাঝে যুক্ত হওয়া নতুন হাইড্রেশন ব্রেক ফিফার বাণিজ্যিক সফলতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
ফিফা একে খেলোয়াড়দের স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ বললেও ফক্স স্পোর্টসের মতো সম্প্রচারক প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিরতিকে বিজ্ঞাপনের দারুণ সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে। চড়া দামে বিজ্ঞাপন বিক্রি করে তারা বিপুল মুনাফা করেছে। এছাড়া অ্যাডিডাস, কোকা কোলা এবং প্রচারণার মুখ ডেভিড বেকহ্যামের মতো সাবেক তারকারাও আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হয়েছেন।
এবারের আসরে আরেক বড় বিজয়ী হলো জুয়া বা বেটিং কোম্পানিগুলো। ম্যাচের সংখ্যা বাড়ায় এটি ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজির ইভেন্টে পরিণত হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বাজি ধরা হয়েছে এই টুর্নামেন্টে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্পোর্টস বেটিং আইনি স্বীকৃতি পাওয়ায় এই খাত থেকে আয়ের অংক আকাশচুম্বী হয়েছে। তবে সাধারণ ফুটবল ভক্তদের জন্য এই টুর্নামেন্ট ছিল চরম তিক্ততার।
ফিফার ডাইনামিক প্রাইসিং পদ্ধতির কারণে টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে ভক্তদের মাঝে ছিল তীব্র অসন্তোষ। ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম সাধারণের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে চলে যায়। শুধু টিকিটই নয়, যাতায়াত, আবাসন এবং খাবারের উচ্চমূল্য সমর্থকদের দিশেহারা করে তুলেছে।
সাধারণ একটি ট্রেন ভ্রমণের ভাড়াই কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আয়োজক শহর এবং স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরাও আশানুরূপ লাভ করতে পারেননি। শুরুর দিকে বিপুল কর্মসংস্থান ও বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।
অর্থনীতিবিদরা জানাচ্ছেন, বিশ্বকাপের ভিড় এড়াতে সাধারণ পর্যটকরা এসব শহর এড়িয়ে চলায় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়। ফিফা আগাম অনেক হোটেল রুম বুক করে রাখায় কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হলেও পরে আশানুরূপ সাধারণ বুকিং মেলেনি। ফলে নিউইয়র্ক বা সিয়াটেলের মতো বড় শহরের হোটেল মালিকরা এই বিশ্বকাপকে ব্যবসায়িক দিক থেকে সফল বলতে নারাজ।
এস এম/ ১৭ জুলাই ২০২৬







