
লন্ডন, ১৭ জুলাই – বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে ইংল্যান্ডের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন আরও একবার ধূলিসাৎ হয়ে গেল। টুর্নামেন্ট জুড়ে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেও বিদায়ের পর এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ভবিষ্যৎ।
পরবর্তী ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে তাকে মাঠের লড়াইয়ে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। ২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে ইংল্যান্ডের প্রধান ভরসার নাম হ্যারি কেইন। সেই আসরে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জেতার পাশাপাশি দীর্ঘ ২৮ বছর পর দলকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন তিনি।
২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে থেমে গেলেও ২০২৬ এর আসরে আবারও সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হলো তার দলকে। ক্লাব ফুটবলে টটেনহ্যামের হয়ে দীর্ঘ সময় ট্রফিশূন্য থাকার পর বায়ার্ন মিউনিখে গিয়ে শিরোপার স্বাদ পেলেও জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি এখনো অধরা রয়ে গেছে তার।
কেইনের সামনে ইউরোতেও একই আক্ষেপ ছিল। ২০২০ এবং ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দুবার ফাইনালে উঠলেও যথাক্রমে ইতালি ও স্পেনের কাছে হারতে হয় ইংল্যান্ডকে। ২০২৬ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপের সময় কেইনের বয়স হবে ৩৬ বছর। শারীরিক অবস্থা ও ফর্ম বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে খেলার বিষয়ে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি।
হ্যারি কেইন বলেন, আমি এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কিছু বলতে চাই না। তখন আমার পারফরম্যান্স কেমন হবে এবং শারীরিক অবস্থা কেমন থাকবে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তবে বয়সের বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব একটা চিন্তিত নন। এ প্রসঙ্গে লিওনেল মেসির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আগামী গ্রীষ্মে আমার বয়স ৩৩ হবে।
মেসি ৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত খেলছেন। আমি এখনই নিজের ক্যারিয়ারের কোনো সীমারেখা টানতে চাই না। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হার নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেন ইংলিশ অধিনায়ক। তার মতে, ম্যাচের দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জয় নিশ্চিত করতে পারেনি তার দল।
তিনি বলেন, এটি যেন আগের টুর্নামেন্টগুলোরই পুনরাবৃত্তি। প্রায় ৬০ মিনিট পর্যন্ত আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল, কিন্তু এরপর পরিস্থিতি বদলে যায়। এক গোলের লিড পেয়েও সেটি ধরে রাখতে না পারা ছিল বড় ব্যর্থতা। শেষ বিশ মিনিটের মধ্যে প্রতিপক্ষ ফিরে আসার সুযোগ পায় এবং আমরা জয় হাতছাড়া করি।
এস এম/ ১৭ জুলাই ২০২৬






