
তেহরান, ১৭ জুলাই – ইরানে প্রথমবারের মতো সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতভর চালানো এই হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর ও রেলস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়ার জরুরি আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার প্রভাব মোকাবিলা করছেন। যদিও সুনির্দিষ্টভাবে কোন ধরণের সরঞ্জামের ওপর হামলা হয়েছে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মার্কিন এই অভিযানের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটির বাহিনীর হামলায় কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধনাগার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুয়েতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার ফলে স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায়, যা পরে দমকল বাহিনীর প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে কারিগরি দলগুলো সেখানে মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কুয়েতে মোতায়েন করা মার্কিন হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (হিমারস) প্ল্যাটফর্ম ও ক্ষেপণাস্ত্র তারা ধ্বংস করেছে। তেহরানের অভিযোগ, ওই স্থাপনাগুলোতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ও ইসরায়েল সমর্থিত যোদ্ধারা অবস্থান করছিল। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতের হামলায় ইরানের আহভাজ, কেশম, বুশেহের, বন্দর আব্বাসসহ হরমুজগান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের বিমান অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত তিনটি সেতু এবং একটি রেলস্টেশনসহ বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এনএন/ ১৭ জুলাই ২০২৬







