
ওয়াশিংটন, ২ জুলাই – বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দলটির ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের দেখা বিতর্কিত লাল কার্ড।
সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের প্রথমার্ধে ৪৫ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে নিলেও ম্যাচের ৬৪ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এই মার্কিন তারকাকে। বালোগানের এই বহিষ্কার ফুটবল বিশ্বে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে যেখানে সমান্তরালভাবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির একটি ফাউলের প্রসঙ্গ উঠে আসছে।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলের চেষ্টায় বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে বালোগানের পা লাগলে এই বিপত্তি ঘটে। ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউস শুরুতে ফাউলের সংকেত না দিলেও ভিএআরের পরামর্শে সাইডলাইন মনিটর দেখে বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
রেফারির এই সিদ্ধান্তকে দ্বিমুখী আচরণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক তারকা ও বিশ্লেষকরা। ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার রিও ফার্ডিনান্ড ভিএআরের কার্যকারিতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে লিওনেল মেসির ট্যাকলটি লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ হলেও সেটি খতিয়ে দেখা হয়নি অথচ বালোগানের বেলায় নিয়ম বদলে গেল।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসি এবং সাবেক নারী ফুটবলার সু স্মিথও রেফারির এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। স্মিথের দাবি, ধীরগতির রিপ্লেতে বিষয়টি গুরুতর মনে হলেও এটি ছিল বল রক্ষার একটি অনিচ্ছাকৃত চেষ্টা। কোচ মরিসিও পচেত্তিনো বালোগানের পাশে দাঁড়িয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তার শিষ্যের প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
পচেত্তিনো মনে করেন বালোগান বা মেসি কারোর ফাউলই লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল না। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও মাঠের লড়াইয়ে তার প্রভাব পড়তে দেয়নি স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের ৮২ মিনিটে মালিক টিলম্যানের চমৎকার এক ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে জয় নিশ্চিত করে তারা।
জয়ের আনন্দ থাকলেও বালোগানের নিষেধাজ্ঞা বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে দলের জন্য। বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে তাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি চাইলে এই শাস্তি আরও বাড়াতে পারে এবং নিয়ম অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ নেই যুক্তরাষ্ট্রের সামনে।
এস এম/ ২ জুলাই ২০২৬







