সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়নে প্রথমবারের মতো জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা রেটিং কাঠামো (ন্যাশনাল রেটিং সিস্টেম-এনআরএস) চালু করছে সরকার। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্য নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা প্রস্তুতির ভিত্তিতে একটি মানসম্মত স্কোর ও গ্রেড দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রেটিং কাঠামোর উদ্বোধন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়নের প্রথম সমন্বিত ও প্রমাণভিত্তিক জাতীয় কাঠামো।
জাতীয় আইসিটি ও সাইবার নিরাপত্তা পরিপক্বতা (ম্যাচিউরিটি) রেটিং নামে পরিচিত এই কাঠামো চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এগুলো হলো- আইটি ও তথ্য নিরাপত্তা পরিচালনা ব্যবস্থা, অবকাঠামো ও পরিচালনা, সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা এবং ডিজিটাল সেবা ও ব্যবহারকারী সক্ষমতা।
রেটিং কাঠামোয় মোট ১৩১টি সূচক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি সূচক শূন্য থেকে চার পর্যন্ত পাঁচ ধাপের ম্যাচিউরিটি স্কেলে মূল্যায়ন করা হবে। এসব মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ১০০ নম্বরের মধ্যে একটি মোট স্কোর পাবে, যা পরে এ (চমৎকার) থেকে ই (দুর্বল); এই পাঁচটি গ্রেডে রূপান্তর করা হবে।
আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন মানদণ্ড ও সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সূচকগুলো তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা প্রস্তুতির সামগ্রিক চিত্র একক মূল্যায়ন ব্যবস্থার আওতায় তুলে ধরা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতদিন দেশে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো, সরকারি সংস্থা কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য কোনো একক জাতীয় মানদণ্ড ছিল না। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা, প্রযুক্তিগত সুরক্ষা, জনবল, অবকাঠামো ও ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের বৈচিত্র্য থাকায় তাদের প্রস্তুতির তুলনামূলক মূল্যায়ন করা কঠিন ছিল।
নতুন রেটিং ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা ও ঝুঁকির জায়গাগুলো সহজে শনাক্ত করা যাবে বলে আশা করছে সরকার। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি নিরীক্ষা, দুর্বলতা মূল্যায়ন ও পেনিট্রেশন টেস্ট (ভিএপিটি), বাজেট পরিকল্পনা, জনবল উন্নয়ন এবং অবকাঠামো বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতি বছর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একটি জাতীয় রেটিং প্রকাশ করা হবে। এতে দেশের সামগ্রিক সাইবার সক্ষমতার একটি ভিত্তিমূলক চিত্র তৈরি হবে, যা নীতিনির্ধারণে সহায়তা করবে এবং জাতীয় সাইবার স্থিতিস্থাপকতা (সাইবার রেজিলিয়েন্স) আরও শক্তিশালী করবে।
ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন ব্যবস্থা, জমা দেওয়া নথির স্বয়ংক্রিয় যাচাই, খাতভিত্তিক তুলনামূলক বিশ্লেষণ, ঝুঁকিভিত্তিক সুপারিশ এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বয়ংক্রিয় উন্নয়ন রোডম্যাপ যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।





