
ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণে দেশের আইন আরও শক্তিশালী করতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা চাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোতে অ্যাপলের সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যান টিম কুকের সঙ্গে বৈঠক করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। বৈঠকের পর তিনি বলেন, ইন্টারনেটের ক্ষতিকর দিক থেকে শিশুদের সুরক্ষায় অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একা কাজ করা সম্ভব নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আলবানিজ বলেন, অনলাইনে ক্ষতির হাত থেকে শিশুদের সুরক্ষায় আমরা কী করছি এবং সামনে কী ধরনের কাজ করতে হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেছি।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলীয়দের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে আমরা আরও কঠোর নিয়ম চালু করছি। এখন অ্যাপলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এগিয়ে আসছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন আলবানিজ। এ সফরে শিল্প খাতের নেতাদের কাছ থেকে এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর প্রযুক্তিটির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
আলবানিজ জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এআই ব্যবহারের জন্য নতুন মানদণ্ড চালু করবে অস্ট্রেলিয়া।
নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার এমনভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়, যাতে প্রযুক্তি অস্ট্রেলীয়দের জন্য কাজ করে, অস্ট্রেলীয়রা প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে না থাকে।
অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যান টিম কুকও এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, শিশুদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে অ্যাপল নতুন কিছু ‘শক্তিশালী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ সম্পর্কে আলবানিজকে জানিয়েছে।
এদিকে চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়া নতুন একটি আইনের খসড়া প্রকাশ করেছে। এতে ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য ‘যত্নের দায়িত্ব’ বা ডিউটি অব কেয়ার আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম বন্ধ করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলোচনা শেষে চলতি বছরের শেষ দিকে আইনটির খসড়া পার্লামেন্টে তোলার কথা রয়েছে।
তবে বিরোধী লিবারেল-ন্যাশনাল জোট বিলটির বর্তমান রূপের বিরোধিতা করেছে। ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জোটটি দাবি করে, প্রস্তাবিত আইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই এবং যোগাযোগমন্ত্রীর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে।
শিশুদের অনলাইন হয়রানি ও ক্ষতিকর অ্যালগরিদম থেকে সুরক্ষার উদ্যোগ হিসেবে গত বছর ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয় অস্ট্রেলিয়া। এটি বিশ্বের প্রথম দিকের এমন উদ্যোগগুলোর একটি।
তবে গত মাসের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ১৬ বছরের কম বয়সী অস্ট্রেলীয়দের একটি অংশ ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যাচ্ছে।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
