টেস্ট ইতিহাসে এর আগে ২৭টি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আজকের ২৮ নম্বর জয়টা অবিস্মরণীয়, ঐতিহাসিক, অকল্পনীয়ও বলা যায়। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়ে টানা চার দিন যাবত ব্যাট-বলের দাপট দেখিয়ে টেস্ট জিতল বাংলাদেশ।
ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এটা দ্বিতীয় জয়। ২০১৭ সালের অপর জয়টি ছিল দেশের মাটিতে, এবার অস্ট্রেলিয়ার মাঠে এসে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ।
ভারত, পাকিস্তানের পর দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জিতল বাংলাদেশ। শ্রীলংকা এখনো টেস্ট জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। এদিকে টেস্ট র্যাংকিংয়ে অস্ট্রেলিয়া এই মুহূর্তে এক নম্বরে, আর বাংলাদেশ নয় নম্বরে। সেই দলটাই অজিদের পুরো চারদিন ধরে দাপট দেখিয়ে হারিয়ে দিল।
টেস্টের প্রথম দিন হাসান মাহমুদের বোলিং জাদু, দ্বিতীয় দিনে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি, নাজমুল হোসেন শান্তদের দুর্দান্ত ব্যাটিং, তৃতীয় দিনে মেহেদি হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদদের দাপট আজ চতুর্থ দিনে মেহেদি হাসান মিরাজের স্পিন, সব মিলিয়ে অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই অবিস্মরণীয় জয়।
ডারউইনে ঐতিহাসিক জয় পেতে বাংলাদেশের সামনে টার্গেট ছিল মাত্র ৫৭ রানের। এই টার্গেটে খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম রানের খাতা খুলতে পারেননি। জশ হ্যাজেলউডের গুড লেংথের বলে সরাসরি বোল্ড। তবে তারপর অজি বোলিং আক্রমণকে সেভাবে সুযোগই দেয়নি বাংলাদেশ।
ওপেনার সাদমান ইসলামকে নিয়ে সহজেই দলের জয় নিশ্চিত করেছেন তিনে নামা মুমিনুল হক। মুমিনুল কিছুটা আক্রমণাত্মক মুডেই খেলেছেন। দলের জয় নিশ্চিত হওয়ার সময় ৩৯ বলে অপরাজিত ছিলেন ৩০ রান করে। আর সাদমান ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ২৫ রানে।
এর আগে সকালে বল হাতে অজিদের কাবু করেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ৪ উইকেটে ১৬১ রান তুলে আজ চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরুন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। দিনের প্রথম সেশনে তিন উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ আর তিনটিই মেহেদি হাসান মিরাজ। ৩০ রানের মাথায় অ্যালেক্স ক্যারিকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান মিরাজ। বড় বড় টার্ন পাচ্ছিলেন মিরাজ। সেটাই কাজে লাগিয়ে ফিরিয়েছেন ক্যারিকে।
মিরাজের টার্ন করে লাফিয়ে উঠা বল ক্যারির ব্যাটের কানা ছুয়ে চলে যায় লিটন দাসের গ্লাফসে। ৭২ বলে ৫টি চারে ৩০ রান করে ফেরেন ক্যারি। বো ওয়েবস্টারের দায়িত্ব ছিল ক্যামেরুন গ্রিনকে সঙ্গ দেওয়া। কিন্তু সেটা পুরোপুরি করতে দেননি মিরাজ। বড় বড় টার্ন পাওয়া মিরাজ ৬৬ ওভারের শেষ বলটা কোনো টার্ন করেননি। ওয়েবস্টার হয়ত আগে থেকেই ধরে নিয়েছিলেন টার্ন হবে! ফলাফল বল গিয়ে সোজা আঘাত হানে তার অফস্ট্যাম্পে! ২১ বল খেলে ৫ রান করে ফেরেন ওয়েবস্টার।
খানিক বাদে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে শর্ট বলে কাবু করেছেন মিরাজ। মিরাজের হাফভলি ডেলিভারি লেগে খেলতে চেয়েছিলেন ক্যামিন্স। বল গিয়ে জমা পরে সাদমান ইসলামের হাতে। ৮ রান করে ফেরেন কামিন্স। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে মিচেল স্টার্ককেও ফিরিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের আরও কাছে নেন তাসকিন আহমেদ।
‘পথের কাটা’ হয়ে থাকা ক্যামেরুন গ্রিনকে ফেরান হাসান মাহমুদ। হাসানের গুড লেংথের বল ডিফেন্স করতে গিয়েছিলেন গ্রিন। কিন্তু বল ব্যাটে ঠিকভাবে নিতে পারেননি, বল চলে যায় স্ট্যাম্পে। ২০১ বল খেলে ৪টি চার ১টি ছয়ে ১০১ রানের মাথায় ফেরেন গ্রিন। এরপর নাথান লায়ানকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানেই গুটিয়ে দেন মিরাজ।
৬৬ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৬ রানে তিন উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। একটি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম।
