ঢাকা: টানা দুইবার এশিয়া কাপ জিতেও ট্রফি হাতে নেয়নি ভারত। গত বছর পুরুষ দলের পর এবার নারী দলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রেসিডেন্ট মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারত।
কেন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে চায়নি ভারত, তা ব্যাখ্যা করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। তার ভাষ্য, পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি এবং নাকভির ভূমিকার কারণেই তার কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি ভারত।
ফাইনালের পর বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাইকিয়া বলেন, ‘পেহেলগামের ঘটনার পর আমাদের পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়। এরপর আমাদের নাগরিকদের কাছ থেকে চাপ ছিল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক রাখা উচিত নয়, তাদের সঙ্গে ক্রিকেটও খেলা উচিত নয়। কিন্তু আমাদের সরকারের নীতি হলো, বহুজাতিক টুর্নামেন্টে আমাদের প্রতিটি দেশের বিপক্ষেই খেলতে হবে। আমরা সেই নীতি অনুসরণ করছি। সে কারণেই বিসিসিআই প্রতিটি দলের বিপক্ষে খেলার জন্য দল পাঠায়।’
ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। এরপর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘিরে দুই দেশের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এর প্রভাব পড়ে ক্রিকেটেও। পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলানো এড়িয়ে চলার পাশাপাশি নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানায় ভারত।
গত বছর পুরুষদের এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেননি সূর্যকুমার যাদবরা। এবার নারী এশিয়া কাপ জয়ের পর একই অবস্থান নেন হারমানপ্রীত কৌররা।
এদিকে ফাইনালের সময় দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের রয়্যাল বক্সে পাশাপাশি দেখা যায় সাইকিয়া, বিসিসিআইয়ের সহসভাপতি রাজীব শুক্লা ও নাকভিকে। এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি পরিষ্কার করেন বিসিসিআই সচিব।
তিনি বলেন, ‘এমন নয় যে আমরা কারও সঙ্গে দেখা করব না। টস থেকে ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি রয়্যাল বক্সে বসে ছিলাম। ম্যাচের সময় যারাই এসেছেন, সবার সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে। শুক্লাজিও এসে আমার সঙ্গে বসেছিলেন। আপনি যার (নাকভি) কথা বলছেন, তিনিও এসে ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদের পাশে বসেছিলেন। এটা স্বাভাবিক রীতি, যখন কেউ আসেন, আমরা সবার সঙ্গে দেখা করি এবং কথা বলি।’
এদিকে, ট্রফি প্রদানের ক্ষেত্রে নাকভির পরিবর্তে এসিসির সহসভাপতির হাত থেকে ট্রফি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিসিআই। তবে তাতে রাজি হননি নাকভি। শেষ পর্যন্ত ট্রফি ছাড়াই শিরোপা উদ্যাপন করে ভারতীয় দল।
এ নিয়ে অবশ্য কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন সাইকিয়া। তিনি বলেন, ‘আজকের পরিস্থিতিও আমরা সমাধান করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হইনি। তবে এ নিয়ে আমাদের কোনো আক্ষেপ নেই। আমাদের উদ্দেশ্য কে ট্রফি তুলে দেবে, সেটিকে কেন্দ্র করে ছিল না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল ভারতীয় দল যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ম্যাচ জেতে। আমরা সেটিতে সফল হয়েছি।’
উল্লেখ্য, দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে অষ্টমবারের মতো নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জেতে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল।

