শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপ জিতল ভারত, নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিল না দল – DesheBideshe



নারী এশিয়া কাপ

দিল্লি,১৪ সেপ্টেম্বর- শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে ভারত। তবে শিরোপা জয়ের পরিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে চাননি ভারতীয় ক্রিকেটাররা। নাকভি একই সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান। ফাইনাল শেষ হওয়ার ৫০ মিনিটের বেশি সময় পর পুর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ভারতীয় দল।

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মোহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে চাননি ভারতীয় ক্রিকেটাররা। নাকভি একই সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান। ফাইনাল শেষ হওয়ার ৫০ মিনিটের বেশি সময় পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয়।

সঞ্চালনা করেন ফারভিজ মাহারুফ। ম্যাচ অফিসিয়ালদের হাতে স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এরপর একে একে রানার্সআপ শ্রীলঙ্কা দলের ক্রিকেটার ও কর্মকর্তারা পদক নেন। লঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু প্রতিক্রিয়া জানান। তার হাতে রানার্সআপ ট্রফি তুলে দেন এসিসি সভাপতি মোহসিন নাকভি। এরপরই মাহারুফ বলেন, “এখানেই শেষ হচ্ছে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।”

গত বছরের ছেলেদের এশিয়া কাপ ফাইনালের পরের দৃশ্যগুলোরই যেন পুনরাবৃত্তি হলো এবার মেয়েদের এশিয়া কাপে। নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া।

ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগে থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর আরও খারাপ হয়। এরপর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করলে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর প্রভাবে ক্রিকেটে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলানো এড়িয়ে যেতে শুরু করে ভারত।

গত বছর ছেলেদের এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে রাজি হয়নি সূর্যকুমার যাদবদের দল। এবার একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হারমানপ্রীত কৌররা। ফাইনালের পর বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে বিসিসিআই সচিব বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি এবং নাকভির ভূমিকার কারণে তার কাছ থেকে ট্রফি নিতে চায়নি ভারত। তিনি বলেন, ‘পেহেলগামের ঘটনার পর আমাদের পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়। এরপর আমাদের নাগরিকদের কাছ থেকে চাপ ছিল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক রাখা উচিত নয়, তাদের সঙ্গে ক্রিকেটও খেলা উচিত নয়। কিন্তু আমাদের সরকারের নীতি হলো, বহুজাতিক টুর্নামেন্টে আমাদের প্রতিটি দেশের বিপক্ষেই খেলতে হবে। আমরা সেই নীতি অনুসরণ করছি। সে কারণেই বিসিসিআই প্রতিটি দলের বিপক্ষে খেলার জন্য দল পাঠায়।’

তবে বহুজাতিক টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা মানেই সবকিছু মেনে নেওয়া নয় বলে মনে করেন সাইকিয়া। তার ভাষায়, ‘এর মানে এই নয় যে আমরা খেলব এবং আমাদের সামনে রাখা প্রতিটি শর্ত মেনে নেব। যে দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগে থেকেই খারাপ ছিল এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর তা আরও খারাপ হয়েছে, আমাদের অভিযান এখনো চলছে। তাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা (নাকভি) আমাদের দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। আমরা তার কাছ থেকে ট্রফি নিতে পারি না।’

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নারী এশিয়া কাপ ফাইনালের সময় রয়্যাল বক্সে ছিলেন সাইকিয়া। এ সময় তাকে বিসিসিআই সহসভাপতি রাজীব শুক্লার সঙ্গে নাকভির পাশে বসতে দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইকিয়া বলেন, ‘এমন নয় যে আমরা কারও সঙ্গে দেখা করব না। টস থেকে ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি রয়্যাল বক্সে বসেছিলাম। ম্যাচের সময় যারাই এসেছেন, সবার সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে। শুক্লাজিও এসে আমার সঙ্গে বসেছিলেন। আপনি যার কথা বলছেন (নাকভি), তিনিও এসে ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদের পাশে বসেছিলেন। এটা স্বাভাবিক রীতি, যখন কেউ আসেন, আমরা সবার সঙ্গে দেখা করি এবং কথা বলি।’

বিসিসিআই চেয়েছিল চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে এসিসি সহসভাপতির কাছ থেকে ট্রফি তুলে দেওয়া হোক। কিন্তু নাকভি তাতে রাজি হননি। তবে এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই বলে দাবি ভারতীয় বোর্ড সচিবের। তিনি বলেন, ‘আজকের পরিস্থিতিও আমরা সমাধান করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হইনি। তবে এ নিয়ে আমাদের কোনো আক্ষেপ নেই। আমাদের উদ্দেশ্য কে ট্রফি তুলে দেবে, সেটিকে কেন্দ্র করে ছিল না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল ভারতীয় দল যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ম্যাচ জেতে। আমরা সেটিতে সফল হয়েছি।’

এস এম/ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Scroll to Top