
মানুষের জীবদ্দশায় যে ক্যান্সারের চিকিৎসা বা নিরাময় এখন সম্ভব নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভবিষ্যতে তার সমাধান বের করতে পারবে বলে মনে করেন যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আর্ম হোল্ডিংসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেনে হাস। তার বিশ্বাস, মানুষের জীবদ্দশাতেই এআই ক্যান্সার নিরাময়ে সহায়তা করতে পারে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন কেমব্রিজভিত্তিক চিপ ডিজাইন প্রতিষ্ঠান আর্ম হোল্ডিংসের সিইও।
হাস বলেন, ক্যান্সারের কারণে ডিএনএর নির্দিষ্ট কোনো মার্কারে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে, তা মডেল করা এখনো মানুষের পাশাপাশি এআইচালিত কম্পিউটারের জন্যও অত্যন্ত জটিল। তবে আরও বেশি তথ্য ও উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে ভবিষ্যতে এআই এই জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারবে।

বিবিসির ‘বিগ বস ইন্টারভিউ’ পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘এআই এমন এক ক্যান্সারের চিকিৎসা খুঁজে বের করবে, যা আজ আমাদের বা অন্য মানুষের পক্ষে জীবদ্দশায় সম্ভব নয়। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের জীবদ্দশাতেই এআই ক্যান্সার নিরাময়ে সহায়তা করবে।’
তবে লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চের অধ্যাপক ক্রিস বাকালের মতে, চিকিৎসায় এআই ব্যবহার করা হবে কি না, সেই প্রশ্ন এখন আর মূল বিষয় নয়। বরং এআইকে কী ধরনের তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
বাকাল জানান, তাদের গবেষণাগারে রোগীদের নমুনা থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে এআইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসব তথ্য ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা নয়। এ ধরনের গবেষণার জন্য সবসময় বিশাল ডেটা সেন্টারেরও প্রয়োজন হয় না।
তার মতে, সঠিক তথ্য ও পরিমাপ যার হাতে থাকবে, ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিষয়ক এআইয়ের সাফল্য অনেকটাই তার ওপর নির্ভর করবে। এআইয়ের পূর্বাভাস নতুন চিকিৎসা তৈরির সময় কয়েক বছর পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারে বলেও তিনি জানান।
এদিকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এআইয়ের কারণে হিউম্যানয়েড রোবটের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে বলে মনে করেন হাস। উৎপাদন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং সেতু নির্মাণ ও মেরামতের মতো কাজে আগামী এক দশকে এসব রোবট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তার ধারণা।
হাস বলেন, এআইয়ের সাহায্যে রোবট পরিবেশ দেখতে, শিখতে এবং নতুন কাজের জন্য নিজেদের পুনরায় প্রোগ্রাম করতে পারবে। ফলে নির্দিষ্ট একটি কাজের জন্য তৈরি করা রোবট পরবর্তী সময়ে অন্য কাজও শেখার সক্ষমতা অর্জন করবে।
এআইয়ের কারণে ব্যাপকভাবে চাকরি হারানোর আশঙ্কাকেও কিছুটা অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন হাস। তার মতে, কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে, তবে মানুষের চাকরি পুরোপুরি মেশিনের দখলে চলে যাবে না। নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
তবে এআইয়ের দ্রুত সম্প্রসারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চিপের সংকট। হাস জানান, বর্তমানে প্রযুক্তি খাত ‘সরবরাহ সংকটের’ মধ্যে রয়েছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে বহু গিগাওয়াট ক্ষমতার বিশাল ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। মহাকাশেও ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা হচ্ছে। এসব বাস্তবায়নে আরও বেশি চিপ কারখানা প্রয়োজন হবে।
আর্মের নকশা করা কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রযুক্তি বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক এআই ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানান হাস। এআইয়ের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে মাইক্রোচিপ বিক্রির ব্যবসাতেও প্রবেশ করেছে আর্ম। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা আর্মকে ‘আর্ম এজিআই’ চিপ তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে। হাসের দাবি, মার্চে চিপটি বাজারে আসার পর এর চাহিদার পরিমাণ ২০০ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম বড় চিপ নির্মাতা তাইওয়ানের টিএসএমসিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক চিপ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে উঠলেও যুক্তরাজ্যে বড় পরিসরে চিপ কারখানা স্থাপনের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন হাস। তার মতে, চিপ কারখানা স্থাপন অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এতে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত কর্মী ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রয়োজন হয়।
২০১৬ সালে জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি হয় যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আর্ম। পরে প্রতিষ্ঠানটির একটি অংশ লন্ডনের পরিবর্তে নিউইয়র্কের নাসডাকে তালিকাভুক্ত করা হয়। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রী হতাশা প্রকাশ করেছিলেন।
তবে হাস বলেন, আর্মের অর্ধেক কর্মী এখনো যুক্তরাজ্যে কাজ করেন। তার দাবি, কেমব্রিজে আর্মই অনেক দূর পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
