ফাইনালের প্রায় পুরোটা জুড়েই আক্রমণাত্মক মুডে ছিল দুই দল। ফাউল, লাল কার্ড, প্রতিপক্ষের সঙ্গে তর্কে জড়ানো; সব মিলিয়ে ছন্নছাড়া আর্জেন্টিনা হাতছাড়া করেছে শিরোপাও। ম্যাচের পর আরও বড় মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে লিওনেল মেসির সতীর্থরা। আর এতেই বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা।
ফাইনালের পর মাঠে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনায় ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি একজন ডিসিপ্লিনারি ও এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে। এই তদন্তের ফলে আর্জেন্টিনার অভিযুক্ত খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্পেনের খেলোয়াড়রা যখন বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা, ঠিক সেই মুহূর্তেই নিউইয়র্কের মাঠে শুরু হয় চরম উত্তেজনা। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনা ধাক্কা দেন ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রিকে। এতেই যেন উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢালা হয়। পরিস্থিতি কিছু সময়ের মধ্যেই দ্রুত অবনতির দিকে যায়। এরপর একে একে এই মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন লিয়ান্দ্রো পারেদেস, থিয়াগো আলমাদা ও সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা।
ফাইনালের পর ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলায় হাত দিয়ে ধাক্কা মারছেন এবং গাভিকে মাটিতে ফেলে দিচ্ছেন। এ ছাড়া রবার্তো আয়ালাও স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
বিবিসির বিশ্লেষক অ্যালান শিয়ারার এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘হারের বেদনা আমরা বুঝি, কিন্তু হেরে যাওয়ারও একটা শালীন পদ্ধতি আছে। আর্জেন্টিনার এই আচরণ অত্যন্ত হতাশাজনক ও ক্ষমার অযোগ্য।’
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অসদাচরণ এবং ফেয়ার প্লে নীতি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর আগে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পরও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের অশালীন উদ্যাপন এবং সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সংক্রান্ত একটি ব্যানার প্রদর্শনের দায়েও শাস্তির মুখে পড়েছে এএফএ।
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ম্যাচ শেষে এই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার চেষ্টা করে বলেছেন, ‘আমরা যেমন জয়ে মার্জিত, পরাজয়েও তেমনি মার্জিত থাকতে জানি।’
তবে ফিফার এই তদন্ত শেষ হলে অভিযুক্ত খেলোয়াড়দের ওপর বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা এবং আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশনের বড় অঙ্কের জরিমানা হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।




