দীর্ঘ ৯৬ বছরের প্রথা ভেঙ্গে এবারই প্রথম ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল ফিফা। দীর্ঘ এক টুর্নামেন্টের পর্দা নেমেছে গত ১৯ জুলাই রাতে। সামনে এখন ২০৩০ বিশ্বকাপ। গুঞ্জন চলছে, সেই বিশ্বকাপে থাকবে ৬৪ দল। এবার সেই গুঞ্জনের পালে হাওয়া দিলেন দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজ। তিনি দাবি করেছেন, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেবে ৬৪টি দল। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি ফিফা, তবু তার এই মন্তব্য নতুন করে বিশ্বকাপ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
ডোমিঙ্গেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘২০৩০ সালে বিশ্বকাপ উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে ফিরছে। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের এটি দারুণ সুযোগ আর সেটি হওয়া উচিত ৬৪ দলের বিশ্বকাপের মাধ্যমে।‘
২০৩০ সালের বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে শতবর্ষ উপলক্ষে উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে।
এর আগে বেশ কয়েকবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পর ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে, ‘এটি অবশ্যই এমন একটি বিষয় যা এই বিশ্বকাপের পর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে আলোচনা করা হবে।’
ইনফান্তিনোর মতে, বিশ্বকাপ শুধু ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয় বরং পুরো বিশ্বের জন্য। তাই ছোট দেশগুলোকেও অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দেওয়া উচিত, যা তাদের ফুটবলের উন্নয়নে উৎসাহ জোগাবে।
যদি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ বাস্তবায়ন হয়, তাহলে টুর্নামেন্টে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১২৮টি। যা ৩২ দলের পুরোনো ফরম্যাটের দ্বিগুণ। সম্ভাব্য ফরম্যাট অনুযায়ী ১৬টি গ্রুপে চারটি করে দল থাকবে এবং শুধু গ্রুপ পর্বেই ম্যাচ হবে ৯৬টি।
তবে এত বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে প্রতিযোগিতার সময়সীমা প্রায় ছয় সপ্তাহে গিয়ে ঠেকতে পারে। এতে ক্লাব ফুটবলের সূচি, খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও অতিরিক্ত ম্যাচের চাপ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফিফার বিভিন্ন কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। এরপর ফিফা কংগ্রেসে ২০৩০ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ফরম্যাট নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।





