নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য টার্গেট ছিল ১৪২ রান। আধুনিক ওয়ানডেতে এই রান খুবই ছোট লক্ষ্য। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় এই রানটাও করতে পারল না বাংলাদেশ! জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ১১৬ রানে গুটিয়ে গিয়ে ২৫ রানে ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ।
এই হারে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০তে পিছিয়ে পরল সফরকারীরা। ব্যাটিং ব্যর্থতায় একমাত্র টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও সেই একই ব্যাটিং ব্যর্থতা! অনেকদিন যাবতই ব্যাটিংয়ের দুর্দশা ভোগাচ্ছে টাইগারদের।
সোমবার (৬ জুলাই) হারারের স্পোর্টস ক্লাব মাঠে জিম্বাবুয়ের দেওয়া মাত্র ১৪১ রানের টার্গেট পেরুতে নেমে শুরুতেই বিপদে পরে যায় বাংলাদেশ। মাত্র ১৭ রানের মধ্যেই ফিরে যান প্রথম তিন ব্যাটার। এরপর ফর্মে থাকা তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান ইনিংসের হাল ধরার চেষ্টা করেছেন।
চতুর্থ উইকেটে দুজনের ৪৯ রানের জুটিতে মনে হচ্ছিল বিপদ কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। কিন্তু সফরকারী ব্যাটারদের একের পর এক ভুল শট, উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসাতে আবারও দ্রুত কয়েকটা উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। শেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে নুরুল হাসান সোহান যখন ফিরলেন বাংলাদেশের রান তখন ৯৮। তারপরও জয়ের জন্য ৪৪ রান লাগত। লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা সেটা তুলতে পারেনি।
নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৩১ রান করেছেন নুরুল হাসান সোহান। ২৫ রান করেছেন তাওহিদ হৃদয়। এছাড়া দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পেরেছেন কেবল অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ (১০)।
এর আগে বাংলাদেশি পেসাররা দুর্দান্ত বোলিং করেছেন, বিশেষ করে নাহিদ রানা। টস হেরে জিম্বাবুয়ে আগে ব্যাট করতে নামলে তাদের ওপেনিং জুটি ভাঙে দলীয় ৩৬ রানের মাথায়। মেহেদি হাসান মিরাজ রান আউট করেন বেন কারানকে। তারপর থেকে নাহিদ রানা আর তাসকিন আহমেদর গতির ঝড়ে রীতিমতো এলোমেলো হয়ে যায় আফ্রিকান দলটি।
পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলে ৪৭ রানের মাথায়। ৭০ রানে অষ্টম উইকেট হারিয়ে একশর আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় স্বাগতিকরা। তবে নবম উইকেট জুটিতে ৬৩ রান তোলেন নিউম্যান নিয়ামুরি ও অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা। দলীয় ১৩৩ রানের মাথায় ৪১ বলে ২৭ রান করা অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভাকে বোল্ড করেন সেই নাহিদ রানা। ৫১ বলে ৩৩ রান করা নিয়ামুরিকে ফেরান মেহেদি হাসান মিরাজ। পরে ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানে গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকরা।
নাহিদ রানা ১০ ওভার বোলিং করে ২১ রান খরচায় নিয়েছেন ৬ উইকেট। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট পেলেন নাহিদ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডেতে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়লেন। মাশরাফি বিন মুর্তজা ও রুবেল হোসেনকে ছাড়িয়ে নাহিদের ২১ রানে ৬ উইকেটটিই ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলিং রেকর্ড। তাসকিন আহমেদ ৩২ রানে নিয়েছেন দুটি উইকেট।




