ইনস্টাগ্রামে শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত বিজ্ঞাপন অপসারণে মেটাকে ভারতের নির্দেশ | চ্যানেল আই অনলাইন

ইনস্টাগ্রামে শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত বিজ্ঞাপন অপসারণে মেটাকে ভারতের নির্দেশ | চ্যানেল আই অনলাইন

ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অবৈধ উপাদান প্রচার বা সেসবের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে এমন বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে এই ধরনের অর্থের বিনিময়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপন কীভাবে প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের সুযোগ পেল, সে বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে মেটাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আজ (৬ জুলাই) সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসি জানিয়েছে, শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত উপাদান প্রচারে ব্যবহৃত বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রামে প্রদর্শিত হওয়ার ঘটনায় ভারত সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাই মেটাকে অবিলম্বে এসব বিজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিবিসি আইয়ে দাবি করা হয়, ভারতে ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে এমন কিছু বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল, যা ব্যবহারকারীদের শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অবৈধ উপাদানের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতের এই পদক্ষেপ সামনে আসে। তবে সরকার কিংবা মেটা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করেনি যে, নোটিশটি সরাসরি ওই অনুসন্ধানের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে কি না।

বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভারতে একটি নতুন পরিচয়ে খোলা পরীক্ষামূলক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট কোনো ধরনের অনুসন্ধান ছাড়াই প্রথমে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট দেখতে শুরু করে। পরে অ্যাকাউন্টটি অর্থের বিনিময়ে প্রচারিত প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফিসংক্রান্ত বিজ্ঞাপন এবং পরে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অবৈধ উপাদানের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপন দেখতে পায়। এসব বিজ্ঞাপনের কিছু ব্যবহারকারীকে এমন বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে পরিচালিত একটি প্ল্যাটফর্মের চ্যানেলে নিয়ে যাচ্ছিল, যেখানে এসব অবৈধ উপাদান বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল।

এই বিষয়ে মেটার এক মুখপাত্র বলেন, শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতনসংক্রান্ত যেকোনো উপাদানের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিষ্ঠানের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি রয়েছে। বিজ্ঞাপনসহ এই ধরনের কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর মধ্যে অপরাধীরা বিভিন্ন কৌশলে শনাক্তকরণ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় এই ধরনের অপরাধ দমনে প্রতিষ্ঠানটি সবসময় চ্যালেঞ্জের মুখে থাকে।

মেটা আরও দাবি করেছে, শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত আগ্রহ রয়েছে এমন ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিজ্ঞাপন দেখানো বা নিরাপত্তার চেয়ে আয়ের বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

Scroll to Top