
ওয়াশিংটন, ২ জুলাই – চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের টিকেট কিনে শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হওয়ায় স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়েই স্বপ্নভঙ্গ হচ্ছে হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমীর। সেকেন্ডারি মার্কেটপ্লেস বা টিকেট পুনর্বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম অব্যবস্থাপনার কারণে বিপুল অর্থ খরচ করে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সমর্থকেরা খেলা না দেখেই ফিরে যাচ্ছেন।
বিশেষ করে স্টাবহাব নামক জনপ্রিয় টিকেট বিক্রয়কারী ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী দর্শকেরা একে টিকেট বিপণন ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে টিকেট নিয়ে চরম নৈরাজ্য।
ডালাসের বাসিন্দা সের্হিও এনরিকে আলভারাদো মোনতালভো তার বাবার জন্য লিওনেল মেসির খেলা দেখার উদ্দেশ্যে স্টাবহাব থেকে ১৭০০ ডলারে আর্জেন্টিনার ম্যাচের টিকেট কিনেছিলেন। মেক্সিকো থেকে আসা-যাওয়া ও হোটেল ভাড়া বাবদ তার খরচ হয়েছিল প্রায় ৬০০০ ডলার।
কিন্তু ভ্রমণের ঠিক আগের দিন তাকে জানানো হয় যে বিক্রেতা টিকেট সরবরাহ করতে পারছেন না। একই রকম অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন বোস্টনের ইবেন পিংরে। তার স্ত্রী ২৮০০ ডলার দিয়ে স্কটল্যান্ড বনাম হাইতি ম্যাচের টিকেট কিনেছিলেন সন্তানের জন্য।
কিন্তু ম্যাচের দিন সেই টিকেট পাওয়া যায়নি, যার ফলে স্টেডিয়ামের বাইরে হতাশায় ভেঙে পড়ে শিশুটি। খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই সংকটের মূল কারণ হলো স্পেকুলেটিভ টিকেটিং বা ফাটকা কারবার। অনেক অসাধু বিক্রেতা নিজের কাছে টিকেট না থাকা সত্ত্বেও বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়।
পরে যখন টিকেটের দাম বৃদ্ধি পায়, তখন তারা সাধারণ ক্রেতাদের টিকেট না দিয়ে বেশি লাভের আশায় অন্য কোথাও চড়া দামে বিক্রি করে দেয়। এর ফলে সাধারণ ক্রেতারা টিকেটের মূল টাকা ফেরত পেলেও ভ্রমণ ও হোটেলের পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থ আর ফিরে পাচ্ছেন না।
এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে জুলি রিকার মোগাল এবং রুবেন রেনতেরিয়া নামের দুই ফুটবল অনুরাগী স্টাবহাবের বিরুদ্ধে একটি যৌথ দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন। আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে যে টিকেট দেওয়ার নাম করে হাজার হাজার দর্শকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রতারণা করা হয়েছে।
ফিফা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে বিশ্বকাপের একমাত্র বৈধ টিকেট তাদের অফিশিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটেই পাওয়া যায় এবং তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছ থেকে কেনা টিকেটের দায় তারা নেবে না।
অন্যদিকে স্টাবহাব এই সমস্যার জন্য ফিফার নতুন টিকেট ট্রান্সফার অ্যাপের কারিগরি ত্রুটিকে দায়ী করেছে। তবে টিকেট টক নেটওয়ার্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্কট ফ্রিডম্যান এই অজুহাত নাকচ করে স্টাবহাবের নীতিহীন ব্যবসাকেই দায়ী করেছেন।
এস এম/ ২ জুলাই ২০২৬






