বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ শনিবার রাতে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হওয়ার কথা ইংল্যান্ড ও নরওয়ের। তবে মাঠের খেলার চেয়ে এখন বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে মায়ামির বৈরী আবহাওয়া। মার্কিন আবহাওয়াবিদদের সতর্কতা অনুযায়ী, তীব্র বজ্রঝড় ও সংলগ্ন বজ্রপাতের কারণে হ্যারি কেইন ও আর্লিং হলান্ডদের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি বড় ধরনের বিলম্ব বা স্থগিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এমনকি ঝড় কেটে যাওয়ার পরও বজ্রপাতের আতঙ্ক ম্যাচ শুরুর পথে বাধা হতে পারে।
গত কয়েকদিন ধরেই দক্ষিণ ফ্লোরিডার আবহাওয়া চরম রূপ ধারণ করেছে। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার এই অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকায় ‘হিট অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছিল। আর শনিবার ম্যাচের দিন যুক্ত হয়েছে তীব্র বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস। অ্যাকুওয়েদারের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ চ্যাড মেরিল এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, মায়ামিতে এখন আটলান্টিক থেকে আসা সমুদ্রের বাতাসের কারণে দুপুরের দিকেই বজ্রঝড় দানা বাঁধতে শুরু করবে। মায়ামির স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার এই ম্যাচের ভাগ্য তাই চরম অনিশ্চয়তায়।
মেরিল বলেন, ‘দুপুর থেকে বিকেলের শুরুর দিকে মায়ামি এলাকায় তীব্র বজ্রঝড় আঘাত হানবে। এই ঝড়গুলো ফ্লোরিডায় প্রচুর বজ্রপাত এবং ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে।’
আবহাওয়াবিদদের মতে, সবচেয়ে বড় বিপত্তি হলো ঝড় কেটে যাওয়ার পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতি। ফ্লোরিডার আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, মূল ঝড় বা মেঘ পশ্চিমে সরে যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে বিপজ্জনকভাবে বজ্রপাত হতে থাকে। ফলে আকাশ কিছুটা পরিষ্কার মনে হলেও খেলোয়াড় ও মাঠে আসা দর্শকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী খেলা শুরু করা সম্ভব নাও হতে পারে।
আজকের এই বিগ ম্যাচের টিকিট ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এখন ফুটবলপ্রেমীদের একটাই প্রার্থনা—বিকেলের আগেই যেন মায়ামির বৈরী আবহাওয়া শান্ত হয়ে আসে, অন্যথায় মাঠের ফুটবলের লড়াইয়ের বদলে আজ হার্ড রক স্টেডিয়ামে দেখতে হতে পারে প্রকৃতির রুদ্ররূপ।





