
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর – দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, কারিগরি সমস্যা সমাধান হওয়ায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার মধ্যেই গ্যাসের সরবরাহ আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তিন ঘণ্টাব্যাপী এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান জানান, বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি বিশদ প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
জ্বালানি সংকট ও সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল
মঙ্গলবারের মধ্যে গ্যাসের স্বস্তি: ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি সারিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে শিল্প খাতের গ্যাস সরবরাহ পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে।
তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল: স্থায়ী ঘাটতি পূরণে জিটুজি (G2G) চুক্তির আওতায় প্রস্তুত করা হচ্ছে নতুন প্রকল্প। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি জাতীয় সরবরাহে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সমস্যা’: প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, দীর্ঘদিনের অবহেলায় জমে থাকা বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট রাতারাতি বা ৬-১২ মাসে মেটানো সম্ভব নয়। তবে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা (Timeline) মেনে সঠিক রোডম্যাপ বাস্তবায়নে নেমেছে।
১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি ও অস্থিতিশীলতা পরিহারের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল অর্থনীতিতে রূপান্তর করার যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা অর্জনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ অপরিহার্য।
“ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে পুরো দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হওয়া। সরকার সমস্যা আড়াল না করে সমাধানের স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছে। তাই হতাশ হওয়ার কারণ নেই। দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করতে প্রতিটি সরকারকে তার নির্ধারিত মেয়াদে সুযোগ দেওয়া উচিত।” – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
একই সাথে তিনি বিচ্ছিন্ন তথ্যের বিভ্রান্তি এড়াতে গণমাধ্যমকে সরকারের পরিকল্পনাগুলো দেশবাসীর কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরার এবং দেশের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
বৈঠকে সরকারি পর্যায়ে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শ্রম উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন সচিববৃন্দ।
ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতিনিধি দলে ছিলেন এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান সহ বিভিন্ন খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে গণমাধ্যমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ইংরেজি দৈনিক ‘ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম, ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল এবং দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা।
এনএন/ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
