পাকিস্তানের ঘোষণা

পাকিস্তানে সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠী ‘জইশ-ই-মোহাম্মদ’ (জেইএম) প্রধান মাসুদ আজহারের গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য পুরস্কারের অর্থ ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।
দেশটির ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) এখনও তাকে মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীদের তালিকায় রেখেছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে মাসুদ আজহার দেশটিতে নেই। ইসলামাবাদের দাবি, তিনি আফগানিস্তানে পালিয়ে গেছেন। তবে এফআইএর সরকারি নথিতে তার নাম এখনও রয়েছে। এমনকি ২০২৬ সালের ‘রেড বুক অব মোস্ট ওয়ান্টেড হাই-প্রোফাইল টেরোরিস্টস’ তালিকাতেও তার নাম রয়েছে।
৫৮ বছর বয়সী মাসুদ আজহার পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান। সংগঠনটির বিরুদ্ধে গত দুই দশকে ভারতের বিভিন্ন বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটির ঘাঁটি ঐতিহ্যগতভাবে পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে বলে ধারণা করা হয়। ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় যেসব স্থানে হামলা চালানো হয়েছিল, বাহাওয়ালপুর তার অন্যতম।
মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
এদিকে সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও অর্থপাচার নিয়ে আলোচনার জন্য ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) অক্টোবর ২০২৬ প্লেনারি বৈঠক আগামী ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাড়তি নজরদারিতে থাকা দেশগুলোর পরিস্থিতিসহ সন্ত্রাসে অর্থায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

ভারতের আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই মাসুদ আজহারের নাম রয়েছে। জইশ-ই-মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ২০০১ সালের ভারতীয় সংসদ ভবনে হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের পরও মাসুদ আজহারের নাম নতুন করে আলোচনায় আসে।
কে এই মাসুদ আজহার?
১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় একটি বিমান ছিনতাইয়ের পর বন্দি মাসুদ আজহারকে মুক্তি দেওয়া হয়। কাঠমান্ডু থেকে দিল্লিগামী ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের আইসি-৮১৪ ফ্লাইটটি পাঁচ সন্ত্রাসী ছিনতাই করে। পরে বিমানটি অমৃতসর, লাহোর ও দুবাই হয়ে আফগানিস্তানের কান্দাহারে নেওয়া হয়। তখন কান্দাহার তালেবানের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
দীর্ঘ জিম্মি সংকটের পর যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত মাসুদ আজহারসহ তিন বন্দি সন্ত্রাসীকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়। মুক্তির পর ১৯৯৯-২০০০ সালের দিকে মাসুদ আজহার জইশ-ই-মোহাম্মদ প্রতিষ্ঠা করেন।
২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও মাসুদ আজহার বেঁচে যান। তবে ভারতীয় হামলায় তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।
৭ মে ভারত পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলার জবাবে সন্ত্রাসী অবকাঠামোর নয়টি স্থাপনায় হামলা চালায়। ওই অভিযানে মাসুদ আজহারের পরিবারের অন্তত ১০ সদস্য এবং তার চার সহযোগী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে তার বড় বোন, বোনের স্বামী, এক ভাগনে, ভাগনের স্ত্রী, এক ভাগনি এবং বর্ধিত পরিবারের পাঁচ শিশুও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
