উনাহির জোড়া গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

উনাহির জোড়া গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচ। আর এই প্রথম ম্যাচেই বিশ্বকাপে নিজেদের স্বপ্নযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল মরক্কো। হিউস্টনে আজ (৪ জুলাই) তারই প্রতিফলন দেখা গেল। মরক্কো-কানাডা ম্যাচে প্রথমার্ধ ছিল রুদ্ধশ্বাস। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে কেবল আজ্জেদিন উনাহি শো দেখেছে বিশ্ব। এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের জোড়ার সুবাধে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে মরক্কো। এই তিন গোলের মধ্যে তৃতীয় গোলটি করেন সুফিয়ান রহিমি।

যদিও প্রথমার্ধে ম্যাচের চিত্র ছিল ভিন্ন। কানাডা শুরু থেকেই মরক্কোকে চাপে রেখেছিল। তানি ওলুওয়াসেইর সুযোগে মরক্কোকে বাঁচান ইয়াসিন বুনু। কানাডার তীব্রতা ও আগ্রাসনে প্রথমার্ধে বেশ অস্বস্তিতেই ছিল আফ্রিকার দেশটি। বিরতির আগে গোল হয়নি। তবে লড়াইয়ের উত্তাপ ছিল স্পষ্ট। ফাউল-চ্যালেঞ্জের কারণে হলুদ কার্ডে ম্যাচের চরিত্র বোঝা যাচ্ছিল। পুরো ম্যাচজুড়ে আটটি হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এটি হিউস্টনে এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থাৎ ৫০ মিনিটে ডেডলক ভাঙে উনাহি। তিনি দ্বিতীয় গোলটি করেন নির্ধারিত সময় শেষ হওয়া আট মিনিট আগে। আর যোগ করা সময়ে কানাডার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেন সুফিয়ান রাহিমি।

এদিন ম্যাচ ঘড়ির দ্বিতীয় মিনিটে ইয়াসিন বুনুর দারুণ কৃতিত্বে রক্ষা পায় মরক্কো। লাইল্যার দুর্দান্ত গতিতে বাইলাইনের দিকে ছুটে যাওয়া কানাডাকে ম্যাচের প্রথম কর্নার এনে দেয়। তবে সেট-পিস স্পেশালিস্ট এউস্তাকিও-র বাঁকানো ইনসুইঙ্গার শটটি দারুণভাবে পাঞ্চ করে ফিরিয়ে দেন বুনু। এরপর ডেভিডের উদ্দেশে বাড়ানো একটি আশাজাগানিয়া বল থেকে কানাডিয়ান স্ট্রাইকার কোণাকুণি শট নিলেও বুনু সেটি রুখে দিতে ভুল করেননি।

তার ঠিক নয় মিনিট পর ফের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান বুনু! ডি-বক্সের প্রান্তে বাড়ানো একটি নিচু বল ধরে ওলুয়াসেয়ি চটজলদি ঘুরে গিয়ে লক্ষ্যের দিকে নিচু শট নেন। তবে মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলকিপার ততক্ষণে নিজের পজিশন সামলে নিয়ে দুর্দান্তভাবে বলটি রুখে দেন।

ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট চেষ্টা করেও গোলের দেখা পায়নি কানাডা ও মরক্কো। প্রথমার্ধে বল দখলে মরক্কো এগিয়ে থাকলেও, সুযোগ বেশি তৈরি করেছে কানাডা। কানাডার একটি শটের বিপরীতে মরক্কো শট নিয়েছে চারটি। যেখানে কানাডার দু’টি শট লক্ষ্যে ছিল এবং মরক্কোর মাত্র একটি।

বিরতি থেকে ফিরে ৫ মিনিটের মাথায় ডেডলক ভাঙে মরক্কো। দারুণ এক ফ্রি-কিক পরিকল্পনা থেকে ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে বুলেট গতির শটে গোল করেন উনাহি। এরপর ৮২ মিনিটে মরক্কোর হয়ে আরও একটি গোল করেন তিনি। বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় গোল। যোগ করা সময়ে গোলের জন্য কানাডার মরিয়া তখনই ব্যবধান বাড়ায় মরক্কো। রাহিমির দিকে বল যাওয়ামাত্র নিখুঁত দক্ষতায় নিচু শটে ক্রেপোকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। আর এর মধ্য দিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সহ-আয়োজক কানাডাকে হারিয়ে শেষ আটের মিশন নিশ্চিত করল ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা।

Scroll to Top