
ঢাকা, ২৯ জুলাই – মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ ব্যাংকগুলোর সঙ্গে লেনদেনে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ভারতীয় রুপিতে নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। একই সাথে লেনদেন সহজ করতে একটি স্বতন্ত্র পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ঢাকায় রাশিয়ার একটি ব্যাংকের শাখা খোলারও প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ ও রাশিয়ার আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকে এসব প্রস্তাব নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে। রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার ব্যাংকগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যিক পাওনা মেটাতে ভারতীয় রুপির ব্যবহারকে একটি বিকল্প সমাধান হিসেবে দেখছে মস্কো। বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রেও একই ধরনের জটিলতা পোহাতে হচ্ছে ঢাকাকে।
ঋণের অর্থ বর্তমানে সোনালী ব্যাংকে রাশিয়ার নামে একটি বিশেষ হিসাবে জমা থাকলেও নিষেধাজ্ঞার ফলে তা সরাসরি স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ থেকে নির্ভরযোগ্য পোশাক সরবরাহকারীদের তালিকা এবং রাশিয়া বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশে রাশিয়ার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও কারিগরি সহায়তার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কাছে রাশিয়ার প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে ইউরিয়া সার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন।
বাংলাদেশও রাশিয়ার এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে কৃষি, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে গঠিত এই কমিশন নিয়মিত ভার্চ্যুয়ালি ও সশরীরে বৈঠক করে আসছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গম ও সার সরবরাহ অব্যাহত রাখায় রাশিয়ার প্রশংসা করা হয়। বিশেষ করে সরকার টু সরকার ব্যবস্থার আওতায় প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টন ইউরিয়া সার সরবরাহের প্রস্তাবকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এস এম/ ২৯ জুলাই ২০২৬







