
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন দুনিয়ায় নিরাপত্তার ঝুঁকি দিন দিন জটিল হচ্ছে। ডিজিটাল যুগে ভুল তথ্য ছড়ানো ও সাইবার হামলা মানুষের নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস। জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের (এনসিএসসি) ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে লেখা এক চিঠিতে এ কথা বলেন রাজা চার্লস।
শনিবার ১০ অক্টোবর প্রকাশিত চিঠিতে তিনি সাইবার হামলা মোকাবিলা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় সংস্থাটির ভূমিকার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, ক্ষতিকর অনলাইন কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্রমাগত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি মোকাবিলা এবং নতুন প্রযুক্তির ঝুঁকি ও সম্ভাবনার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা জরুরি। এর মাধ্যমে অনলাইন পরিবেশকে আরও নিরাপদ ও সুরক্ষিত করা সম্ভব।
২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের সরকারি যোগাযোগ সদর দপ্তরের অংশ হিসেবে ‘ ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার ’ (এনসিএসসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়। গত এক দশকে সংস্থাটি সরকারি সেবা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাইবার হামলা মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংস্থাটির অনেক কাজ প্রকাশ্যে তুলে ধরা সম্ভব হয় না উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।
বিবিসি জানিয়েছে, রাজা চার্লসের এই সতর্কবার্তার মধ্যেই যুক্তরাজ্যের অনলাইন কেনাকাটার প্রতিষ্ঠান এএসওএসে সাইবার হামলার ঘটেছে। গ্রাহকদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির অ্যাপ থেকে হ্যাকারদের পাঠানো নোটিফিকেশন পৌঁছানোর পর জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠানটিকে সহায়তার প্রস্তাব দেয় বলে।
মঙ্গলবার ৯ অক্টোবর ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসে। সাইবার অপরাধীরা এএসওএসের নিজস্ব অ্যাপ ব্যবস্থার অপব্যবহার করে সম্ভাব্য কয়েক মিলিয়ন ব্যবহারকারীর কাছে পপ-আপ বার্তা পাঠায়।
এএসওএস জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অননুমোদিত কার্যক্রমের বিষয়ে তারা তদন্ত করছে।
প্রতিষ্ঠানটির আশঙ্কা, হ্যাকারদের হাতে সম্ভাব্য কয়েক মিলিয়ন গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ইমেইল, গ্রাহক নম্বর ও জন্মতারিখ থাকতে পারে।
সাইবার অপরাধীরা দাবি করেছে, এই হামলায় তথ্য চুরির পরিমাণ প্রতিষ্ঠানটির আগের বক্তব্যে উল্লেখ করা মৌলিক যোগাযোগের তথ্যের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে বিবিসি জানিয়েছে। এ বিষয়ে গ্রাহকদের নতুন করে তথ্য জানিয়েছে এএসওএস।
রাজা চার্লস গত মাসে আয়ারশায়ারের ডামফ্রিস হাউসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকেও প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য ঝুঁকি ও বিপদ নিয়েও সতর্ক করেছিলেন। তার মতে, এআই ভুল ব্যক্তিদের হাতে পড়লে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
তিনি বলেন, উন্নত এআই প্রযুক্তি তৈরি করা ব্যক্তিরাও এখন এর বিপজ্জনক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এমনকি এই প্রযুক্তি মানুষের জীবনহানির কারণ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন কেউ কেউ।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




