জার্মানিতে চলতি কর্মীসংকটে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিতে আগ্রহী জার্মান সরকার। বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও অনেক বদল আনা হয়েছে। কাজের সুযোগের পাশাপাশি বিদেশি কর্মীদের নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ রাখা হয়েছে নতুন আইনে।
আনন্দবাজার পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে।
২০২০ সালের পর থেকে জার্মানিতে কর্মীসংকট দেখা দেয়। জার্মানির আর্থিক অবস্থাও ভাল নয়। লোকের অভাবে থমকে গিয়েছে দেশের শিল্প, কমেছে উৎপাদন। জার্মানির এই কর্মীসঙ্কট নিয়ে বিভিন্ন গবেষণাও হয়েছে।
জার্মানির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুসারে, সেদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরিতে ১৭ লাখেও বেশি শূন্যপদ রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষকতা, নির্মাণ, কৃষি, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ দেবে জার্মানি।


গত বছর জার্মানি সরকার নতুন অভিবাসন আইন এনেছে। যার ফলে জার্মানিতে নাগরিকত্ব পেতে সুবিধা পাবেন অভিবাসীরা। নতুন অভিবাসন আইনের অধীনে জার্মানিতে পাঁচ বছর বসবাস করলেই বিদেশিরা জার্মান পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এমনকি ইন্টিগ্রেশন বা জার্মান সমাজে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য যোগ্যতা অর্জন করলে তিন বছরের মধ্যেই নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
জার্মানি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার ও শ্রমমন্ত্রী হুবার্টাস হেইল বর্তমানে ভিয়েতনাম সফরে রয়েছেন। সে দেশের সরকারের বিভিন্ন আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করছেন, চুক্তি সই হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, জার্মানিতে কাজ করতে আসার জন্য সে দেশের তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা।
জার্মানি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার জানিয়েছেন, ভিয়েতনামি-জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় সেখানকার পড়ুয়াদের থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। অনেকেই নাকি জার্মান সংস্থায় কাজ করার ব্যাপারে উৎসাহ দেখিয়েছেন। এ ছাড়াও ভিয়েতনামে প্রতি বছর বহু তরুণ-তরুণী জার্মান ভাষা শিখছেন।
ভিয়েতনামসহ মরক্কো, ফিলিপিন্স, ভারতের মতো দেশগুলোতেও সফরে যাচ্ছেন জার্মানের বিভিন্ন মন্ত্রী। বিশেষজ্ঞদের মতে, জার্মানি যে ব্যবস্থাই নিক না কেন, সমস্যা আরও কিছুকাল থাকবে। কর্মী সঙ্কট মেটাতে সরকারকে একই সাথে উদার এবং কঠোর নীতি অবলম্বন করতে হবে বলেও মনে করছে একাংশ।






