বাংলাদেশের নির্বাচন ও পরবর্তী পরিস্থিতি

বাংলাদেশের নির্বাচন ও পরবর্তী পরিস্থিতি

বাংলাদেশ বিভিন্ন সময় অভ্যুত্থান, সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে গেছে। জাতিকে রাজনৈতিকভাবে পরিপক্বতার দিকে নিয়ে যেতে একটি শক্ত হাতের প্রয়োজন। একটি শক্ত হাতের প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। এটা কোনো সহজসাধ্য কাজ নয়। এমনকি সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোর জন্যও এই কাজ যে কঠিন, তা অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে।

উন্নয়নের একটি মূল পূর্বশর্ত নিরাপত্তা ও আইনের শাসন। সমাজ থেকে সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও মৌলবাদ নির্মূলে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যেসব বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, তার মধ্যে একটি হলো, ধর্মের প্রতি মানুষের একটি মধ্যপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা এবং মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন। এ ক্ষেত্রে এখনো অনেক কিছু করা বাকি আছে এবং এটা তাঁর নজরে থাকবে বলেই মনে হয়। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পরিণতি সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল। মডেল হিসেবে সৌদি আরব বা তুরস্কের চেয়ে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার দিকে তাঁর নজর বেশি। দেশের জনগণের কাছে আওয়ামী লীগ যে বার্তা দেবে এবং জনগণের কাছে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, সে অনুযায়ী দলটিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগীদের জন্যও এটি প্রযোজ্য।

বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলে বদল আসছে। এই দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল রয়েছে।

ইসলামী বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ কীভাবে নিজেকে সংজ্ঞায়িত করবে, ভারতের ক্ষেত্রে কীভাবে নিজেদের তুলে ধরবে, সে ব্যাপারে তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি হবে মৌলিক। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রেও সেটিই প্রযোজ্য।

Scroll to Top