রাসিকের মডেল সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে: পলক

রাসিকের মডেল সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে: পলক

শীত মানে না পেট, মানে না দরিদ্রতা। তাই পেটের দায়ে শীতেও থেমে নেই খেটে-খাওয়া মানুষজন। জীবিকার তাগিদে সারিবদ্ধভাবে বসে দ্রুত হাত চালিয়ে মাছ কেটে আয় করেন তারা।

পুরুষের বাজারে সংসারের অভাব ঘোচাতে কাজে যুক্ত হয়েছেন বেশকিছু নারী শ্রমিকরা। ঘড়ির কাটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উপার্জনে যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছেন তারা। এমন চিত্রই প্রতিনিয়ত চোখে পড়ে রংপুর সিটি বাজার মাছ হাটিতে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সারা বছর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাছ বাজারে এভাবেই কাজ করেন তারা। তাদের যেন শীত নেই, নেই বর্ষা কিংবা গ্রীষ্মকাল। কেজি প্রতি মাছ ১০-২০ টাকা করে ২৫০-৩০০ টাকা আয় করেই চলে তাদের সংসার। ঘন কুয়াশা ও শীতকে তোয়াক্কা না করেই পরিবার পরিজনের কথা ভেবেই মাছ কেটে ধুয়ে দেন তারা। শীতে জবুথবু হয়ে বসেই সাধ্যমতো শীতবস্ত্র পরেই কাজে আসেন প্রতিদিন।


আলাপকালে সারিবদ্ধভাবে বসে থাকা কয়েকজন বলেন, ‘হামার (আমার) শীত, বর্ষা আর গরম নাই। হাতে করি, আর পেটে খাই হামার কাজ না করি আর উপায় নাই। একদিন কাজ করতে না পেটে ভাত যায় না। এখানে অনেকেরই স্বামী নাই, সন্তানদের নিয়া অনেক কষ্ট! একবেলা মাছ না কাটলে ভাত জুটে না। মাঝারি আকারে এক কেজি মাছ কাটলে ১০ টাকা আর ছোট মাছ ২০ টাকা করে পাই। সকাল থাকি (থেকে) সন্ধ্যা পর্যন্ত যত কেজি মাছ কাটতে পারি সেভাবেই টাকা হয়।’

এই শীতে জবুথবু হয়ে এককোণে বসে মাছ কাটছে মর্জিনা বেগম। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে কুয়াশা আর বাতাস হওছে (বইছে), কিন্তু হামারগুলার (আমাদের) কষ্ট দেখে কাই (কে)। চেংড়ি বয়স (কম) হাতে স্বামী নাই। তখন থাকি এই বাজারে মাছ কুটি। মোর বাড়ি বলতে এই বাজারেই। মাথা গোছার কোনো ঠাঁই নাই। সকালে আসি। যা টাকা পাই তাই দিয়া খাই। হামার কষ্টের বাকি দিন এইতন (এমন) করিয়্যা যাইবে।


বাজারে প্রবেশ করতেই মাছ কাটতে দেখা যায় ফরিদা বেগমকে। তিনি বলেন, শীতেতো বাঁচা দায় হয়া গেইছে (গেছে)। কিন্তু বাচ্চাদের কথা চিন্তা করি বাড়িত বসি না থাকি। সকালে আসি আর রাইতে যাই। মাছ কুটিয়া, ধুইয়া দেই ১০-২০ কেজি করি, সারাদিনে ৩০০-৩৫০ টাকা পাই। এই টাকা দিয়া বাজার খরচ, বাচ্চাদের পড়ালেখা, কিস্তি দিতে অনেকটা আগায়৷ স্বামী রিকশা চালায় একা হাতের উপার্জনে সংসার চলে না। হামার কষ্ট করারি কপাল, তাই শীত গায়ে নাগলেও (লাগলেও) পেটের কথা চিন্তা কররে টের না পাই।

এভাবেই প্রতিটি নারী শীতের সঙ্গে সংগ্রাম করে কাজ করছেন সংসারে অভাবের তাড়নায়। সকলেই বলছেন তাদের কষ্টের কথা। পুরুষের বাজারে নিজেদেরকে মেহনতি হিসেবে সকলেরই রয়েছে ব্যতিক্রমী সংগ্রামী গল্প।

Scroll to Top