
ছবি: সংগৃহীত
অ্যাপল প্রথমবারের মতো ফোল্ডেবল স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন ইভেন্টে বিশ্ববাজারের জন্য ‘আইফোন ডুও’ নামের এই ফোল্ডেবল ফোনটি উন্মোচন করে প্রতিষ্ঠানটি। দুটি রঙে বাজারে আসছে ফোনটি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
আইফোন ডুওতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপসেট। ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি এই চিপসেট নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সেও ব্যবহার করা হয়েছে।
ফোনটিতে রয়েছে ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ। এর প্রধান ক্যামেরাটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের। ফোল্ডেবল ডিসপ্লের ভেতর এবং কভার ডিসপ্লেতেও ক্যামেরা রয়েছে। পাসপোর্টের মতো ভাঁজ করা যায় এমন এই ফোনে ম্যাগসেফ ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধাও থাকছে।
আইফোন ডুওর ২৫৬ জিবি স্টোরেজের বেস মডেলের আন্তর্জাতিক দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার। ফোনটির সর্বোচ্চ স্টোরেজ ২ টেরাবাইট।
আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ফোনটির প্রি-অর্ডার শুরু হবে। ২৩ অক্টোবর থেকে বাজারে বিক্রি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আইফোন ডুওতে রয়েছে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির সুপার রেটিনা এক্সডিআর ফোল্ডেবল ডিসপ্লে। এটি আইফোন ১৮ প্রোর ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চি ডিসপ্লের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বড়।
ডিসপ্লের মাঝখানের ভাঁজের দাগ কম দৃশ্যমান করতে এতে কাস্টম ন্যানো টেক্সচার ফিনিশ ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এটি আলো প্রতিফলনও কমাবে। ভেতরের ডিসপ্লেতে বিশেষ পলিমারের সঙ্গে উচ্চ শক্তির কাচ ব্যবহার করা হয়েছে।
ফোনটির বাইরের কভার ডিসপ্লে ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চির সুপার রেটিনা এক্সডিআর। বাইরের ডিসপ্লে ও পেছনের প্যানেলে রয়েছে সিরামিক শিল্ড সুরক্ষা।
আইফোন ডুওতে থাকবে বিশেষভাবে ফোনটির জন্য কাস্টমাইজ করা আইওএস ২৭। এতে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহারের জন্য স্প্লিট ভিউ, অ্যাপ জোড়া লাগানো ও সোয়াইপ করে দ্রুত অ্যাপ পরিবর্তনের সুবিধা রয়েছে। ফোন আংশিক ভাঁজ করেও ব্যবহার করা যাবে। চার্জে না লাগানো অবস্থাতেও স্ট্যান্ডবাই মোড ব্যবহারের সুবিধা থাকছে।
২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি এ২০ প্রো চিপসেটে রয়েছে ছয় কোরের সিপিইউ। এর মধ্যে দুটি নতুন ‘সুপার কোর’, যা আগের তুলনায় ২০ শতাংশ দ্রুত পারফরম্যান্স দিতে পারে। পাশাপাশি রয়েছে চারটি এফিশিয়েন্সি কোর।
চিপসেটটিতে সাত কোরের জিপিইউ রয়েছে, যা গ্রাফিকস পারফরম্যান্স ৪০ শতাংশ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যান্ডউইথও বৃদ্ধি করবে। নতুন নিউরাল অ্যাকসেলারেটরের মাধ্যমে এফপি৮ পারফরম্যান্স দ্বিগুণ দ্রুত হওয়ার দাবি করেছে অ্যাপল।
এ২০ প্রোতে দুটি নিউরাল ইঞ্জিন মিলিয়ে মোট ৩২টি কোর রয়েছে। এতে আরও দক্ষ পারফরম্যান্স ও ৮-বিট ফ্লোটিং-পয়েন্ট সাপোর্ট পাওয়া যাবে বলে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চিপসেটটি মেমোরি ব্যান্ডউইথ ৫০ শতাংশ বাড়াবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ২০ প্রো চিপসেট এ১৯ প্রোর তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি শক্তিশালী এবং এ১৮ প্রোর তুলনায় দ্বিগুণ শক্তিশালী। ফোনটিতে নতুন অ্যাপল সি২ মডেমও রয়েছে, যা সি১এক্স মডেমের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি পারফরম্যান্স দিতে পারে।

আইফোন ডুওর পেছনে রয়েছে ডুয়াল ক্যামেরা। এর প্রধান ক্যামেরাটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন ক্যামেরা, যাতে ২x অপটিক্যাল জুম সুবিধা রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা।
ফোনটি সর্বোচ্চ ৪কে রেজল্যুশনে প্রতি সেকেন্ডে ১২০ ফ্রেমে ভিডিও ধারণ করতে পারবে। সামনে রয়েছে সেন্টার স্টেজ ক্যামেরা। পাশাপাশি ফোল্ডেবল ডিসপ্লের নিচে রাখা হয়েছে আন্ডার-ডিসপ্লে ফেসটাইম ক্যামেরা।
অ্যাপলের দাবি, আইফোন ডুওতে সারাদিনের ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। ভেতরের ডিসপ্লে ব্যবহার করে একবার চার্জে সর্বোচ্চ ৩১ ঘণ্টা ভিডিও চালানো সম্ভব। বাইরের ডিসপ্লে ব্যবহার করলে এই সময় ৪৪ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। দুই ডিসপ্লে মিলিয়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত।
অ্যাপল আরও জানিয়েছে, মাত্র ৫ মিনিট চার্জ দিলেই ফোনটিতে প্রায় ৫ ঘণ্টা ভিডিও প্লেব্যাকের শক্তি পাওয়া যাবে।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
