পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ইতিহাস গড়েছেন তাওহিদ হৃদয়। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে বিদেশের মাটিত ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন হৃদয়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসও খেললেন হৃদয়।
দক্ষিণ আফ্রিকায় শেষ পর্যন্ত ৩৫০ রানে থেমেছেন হৃদয়। তার ৩৫০ রানে অপরাজিত থাকার সময় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। এতোদিন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি ছিল তামিম ইকবালের। ২০১৯ সালে বিসিএলে পূর্বাঞ্চলের হয়ে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে এই ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। আজ তামিমকেও ছাড়িয়ে গেলেন হৃদয়।
বাংলাদেশি ব্যাটারদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ইতিহাসে এটি তৃতীয় ট্রিপল সেঞ্চুরি। এর আগে এই কীর্তি ছিল রকিবুল হাসান ও তামিম ইকবালের দখলে। এবার সেই অভিজাত তালিকায় যুক্ত হলেন হৃদয়।
ম্যাচের তৃতীয় ও শেষ দিনে আগের দিনের ২০৪ রানে অপরাজিত থাকা হৃদয় আবার ব্যাটিংয়ে নামেন। এরপর টেলএন্ডারদের সঙ্গে নিয়ে একের পর এক রান করে এগিয়ে যান তিনি। নাঈম হাসান ও হাসান মুরাদের সঙ্গে ছোট দুটি জুটি গড়ার পর রেজাউর রহমান রাজার সঙ্গে বড় জুটি গড়ে দলের লিড আরও বাড়িয়ে দেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক।
শেষ পর্যন্ত ৪৫০ বল মোকাবিলা করে ট্রিপল সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন হৃদয়। তবে হৃদয়কে তারপরও আউট করতে পারেনি প্রতিপক্ষ। বাংলাদেশের ইনিংস ঘোষণার সময় তার নামের পাশে ছিল অবিশ্বাস্য ৩৫০ রান। তার ব্যাটে ভর করেই দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে বড় সংগ্রহ গড়ে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।
পচেফস্ট্রুমের এই ম্যাচে হৃদয়ের ব্যাটিং ছিল এক কথায় দারুণ। আগের দিন ডাবল সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থাকার পর শেষ দিনে আরও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে নিজের ইনিংসকে নিয়ে যান সাড়ে তিনশ রানে।
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে হৃদয়ের এই ৩৫০ তাই হয়ে থাকল বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের অন্যতম স্মরণীয় ইনিংস—যেখানে ব্যক্তিগত রেকর্ডের সঙ্গে যুক্ত হলো দেশের ক্রিকেটের নতুন ইতিহাস।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি, হৃদয়ের এই ইনিংসটি শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, দেশের ক্রিকেটের জন্যও নতুন ইতিহাস।
বাংলাদেশের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছিলেন রকিবুল হাসান। ২০০৭ সালে জাতীয় লিগে ফতুল্লায় সিলেট বিভাগের বিপক্ষে বরিশাল বিভাগের হয়ে ৩১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এরপর ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) তামিম ইকবাল সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যান। তামিমকে আজ ছাড়িয়ে গেলেন হৃদয়।
