পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান প্রায় নয় মাস পর কারাগারে স্ত্রী বুশরা বিবি ও বোনের সঙ্গে দেখা করেছেন। দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে এই সাক্ষাৎ হয়।
বুধবার ১৯ আগস্ট তথ্যটি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট কারাবন্দি ইমরান খানকে সপ্তাহে একবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে চিকিৎসার জন্য ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইমরানের বোন নূরিন নিয়াজি এ বছর প্রথমবারের মতো তার সঙ্গে দেখা করেন। কারাগারের কনফারেন্স কক্ষে তাদের প্রায় ১৫ মিনিট কথা হয়। এ সময় ইমরানের স্বাস্থ্য ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা। নূরিন তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথাও জানান।
তবে সাক্ষাতের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। রাজনৈতিক স্বার্থে এই সাক্ষাৎ ব্যবহার করা হলে ইমরান খানকে দেওয়া সুবিধা প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে আদালত সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছে।
ইমরানের অন্য বোন আলিমা খান ও উজমা খান এবং তার চাচাতো ভাই কাসিম জামানকে এদিন তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পিটিআইয়ের কোনো রাজনৈতিক নেতাকেও সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবিও মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর ইমরান ও বুশরার মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট সাক্ষাৎ হয় বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে।
এর আগে বুশরা বিবি তার সন্তান মুসা ও মুবাশশারা মানেকা এবং ননদ মেহরুন্নিসার সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট সাক্ষাৎ করেন। মুসা ও মুবাশশারা বুশরার আগের সংসানের সন্তান।
ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে সাজা রয়েছে এবং বর্তমানে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
এদিকে ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট তাকে দুই দিনের মধ্যে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে তার চিকিৎসা চালানোর কথা রয়েছে।


