বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার সামিত সোমের ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ক্যাভালরি এফসির সঙ্গে তিন বছরের পথচলা শেষ করে ঐতিহ্যবাহী মার্কিন ক্লাব নিউ ইয়র্ক কসমসে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশি এই মিডফিল্ডার।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে সামিতকে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নিউ ইয়র্ক কসমস। ক্লাবটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমএলএস ও কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ মিলিয়ে প্রায় এক দশকের পেশাদার ফুটবলের অভিজ্ঞতা রয়েছে সামিতের। তার অভিজ্ঞতা কসমসের মিডফিল্ডকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও উল্লেখ করেছে ক্লাবটি।
কসমসে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সামিতও। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘কসমস কান্ট্রি, আমি সামিত সোম। বাংলাদেশি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত।’
নিউ ইয়র্ক কসমস শুধু যুক্তরাষ্ট্রেরই নয়, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসেও একটি ঐতিহ্যবাহী নাম। ১৯৭০-এর দশকে ক্লাবটির জার্সিতে খেলেছেন ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি—ব্রাজিলের পেলে ও জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার। পেলে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত কসমসের হয়ে খেলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বর্তমানে অবশ্য নিউ ইয়র্ক কসমস যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের তৃতীয় স্তরে খেলছে। সেই ঐতিহাসিক ক্লাবেই এবার জায়গা করে নিলেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের মিডফিল্ডার সামিত।
এর আগে গত জানুয়ারিতে ক্যাভালরি এফসির সঙ্গে তিন বছরের অধ্যায় শেষ হয় সামিতের। ২০২৬ মৌসুমের দলবদলের আগে তার বিদায়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছিল কানাডার ক্লাবটি।
আন্তর্জাতিক ফুটবলেও সামিতের পথচলা বেশ বৈচিত্র্যময়। বাংলাদেশে জাতীয় দলে খেলার আগে কানাডার হয়ে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। পরে বাবা-মায়ের শেকড়ের টানে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার।
গত বছর জুনে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় সামিতের। লাল-সবুজের হয়ে প্রথম গোল পেতে অবশ্য অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় চার মাস। পরবর্তী বাছাইপর্বে হংকংয়ের বিপক্ষে ৪-৩ গোলে হারা ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবারের মতো গোলের দেখা পান এই মিডফিল্ডার।
