দৈনন্দিন জীবনে ধীরগতির ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মুখোমুখি হওয়া অত্যন্ত বিরক্তিকর একটি অভিজ্ঞতা। এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেতে বেশিরভাগ মানুষই সাধারণত রাউটারের অবস্থান বদলে অন্য ঘরে নিয়ে যান কিংবা অ্যান্টেনাগুলোকে বিভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে সিগন্যাল পাওয়ার চেষ্টা চালান। অথচ নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রথাগত উপায়ের বাইরে রাউটারের অভ্যন্তরীণ একটি ছোট্ট সেটিং পরিবর্তন করেই ধীরগতির ওয়াই-ফাই সংযোগের আমূল পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব। অধিকাংশ সাধারণ ব্যবহারকারীর অলক্ষ্যে থাকা এই অতি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংটির নাম ‘চ্যানেল উইডথ’ (Channel Width) বা ‘চ্যানেল ব্যান্ডউইথ’। সহজ কথায়, এটি নির্ধারণ করে দেয় যে আপনার রাউটারটি ইন্টারনেট ডেটা স্থানান্তরের জন্য ঠিক কতটুকু ওয়্যারলেস স্পেকট্রাম বা ফ্রিকোয়েন্সি সীমা ব্যবহার করবে।
আসুন বিস্তারিত জেনে নেই…
কেন সংযোগে এমন জট বা সমস্যা তৈরি হয়?
সাধারণত বাজার থেকে কেনা রাউটারগুলোতে ডিফল্ট বা পূর্বনির্ধারিত সেটিং হিসেবে ২.৪ গিগাহার্জ (2.4 GHz) ফ্রিকোয়েন্সির জন্য ৪০ মেগাহার্জ (40 MHz) এবং ৫ গিগাহার্জ (5 GHz) ফ্রিকোয়েন্সির জন্য ৮০ মেগাহার্জ (80 MHz) নির্ধারিত থাকে, অথবা পুরোটাই ‘Auto’ মোডে দেওয়া থাকে।
কাগজে-কলমে বড় চ্যানেল উইডথ বেশি স্পিড বা গতি দিতে সক্ষম হলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বা ফ্ল্যাট বাড়িতে এটি উল্টো বিপত্তি ঘটায়। কারণ সেখানে আশপাশের অনেকগুলো রাউটার একই ফ্রিকোয়েন্সি সীমানায় সিগন্যাল আদান-প্রদান করতে থাকে। ফলে সিগন্যাল ওভারল্যাপ বা ‘ইন্টারফেয়ারেন্স’ সৃষ্টি হয়ে নেটওয়ার্কের গতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।
কীভাবে এই জটিলতার সমাধান করবেন?
২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ডের ক্ষেত্রে: ২.৪ গিগাহার্জ ফ্রিকোয়েন্সিতে ফাঁকা বা ওভারল্যাপ ছাড়া চ্যানেলের সংখ্যা খুবই সীমিত। তাই এর চ্যানেল উইডথ ৪০ মেগাহার্জ থেকে কমিয়ে ২০ মেগাহার্জ (20 MHz) করে দিলে আশপাশের অন্য রাউটারের সিগন্যাল জট আপনার ওয়াই-ফাইকে ব্যাহত করতে পারবে না এবং ইন্টারনেটের স্থায়িত্ব অনেক বেড়ে যাবে।
৫ ও ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডের ক্ষেত্রে: ৫ গিগাহার্জ বা ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডে ফাঁকা চ্যানেলের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সেখানে সিগন্যাল বাধার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তবে সেখানেও সংযোগ ওঠানামা করলে চ্যানেল উইডথ কিছুটা কমিয়ে পরীক্ষা করা যেতে পারে।
রাউটার সেটিং পরিবর্তনের সহজ নিয়ম
১. ব্রাউজারে আপনার রাউটারের নির্দিষ্ট IP Address লিখে অ্যাডমিন পেজে লগ ইন করুন।
২. Wireless Settings সেকশনে গিয়ে Channel Width অপশনটি খুঁজুন।
৩. প্রয়োজন অনুযায়ী মেগাহার্জ (MHz) সামঞ্জস্য করে পরিবর্তনটি সেভ (Save) করুন।
৪. নতুন সেটিংয়ে কয়েকদিন সংযোগ পরীক্ষা করে দেখুন। যদি স্থায়িত্ব কমে যায়, তবে খুব সহজেই আবার আগের ডিফল্ট সেটিংয়ে ফিরে যেতে পারবেন।
আপনার এলাকার সবচেয়ে ফাঁকা ওয়াই-ফাই চ্যানেল শনাক্ত করতে স্মার্টফোনে একটি ‘Wi-Fi Analyzer’ অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, ঘরের দেয়াল বা ভবনের গঠন, রাউটারের মডেল এবং আশপাশের সিগন্যালের ওপর ভিত্তি করে এই সেটিংসের কার্যকারিতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।





