দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে। আন্তর্জাতিক মানের একটি এক্সিলেন্স সেন্টার অনেক দিনের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটে। সেটিও অনুমোদন এবার দিয়ে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পূর্বাচলে হবে আধুনিক এই এক্সিলেন্স সেন্টার।
বুধবার অনুষ্ঠিত বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য এটিই বর্তমান বোর্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক মানের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
তামিম বলেন, ‘আমরা এমন একটি এক্সিলেন্স সেন্টার চাই, যেখানে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো থাকবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটি বড় মাইলফলক হবে।’
পূর্বাচল ক্রিকেট কমপ্লেক্সের মূল নকশা প্রস্তুতকারী অস্ট্রেলিয়ার স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান পপুলাসকেই নতুন করে ডিজাইন সংশোধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগের নকশায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে আধুনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি পূর্ণাঙ্গ এক্সিলেন্স সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে বিসিবি।
বিসিবি সভাপতি জানান, আগের নকশা তার কল্পিত পরিকল্পনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এজন্য নতুনভাবে ডিজাইন তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পপুলাসের বকেয়া ৯ লাখ ডলার পরিশোধের বিষয়েও বোর্ড সভায় আলোচনা হয়েছে। সংশোধিত নকশা হাতে পাওয়ার পর প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিসিবির পরিচালক ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান শানিয়ান তানিম বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আনুমানিক আড়াই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। চূড়ান্ত নকশা প্রস্তুত হওয়ার পর নির্মাণ ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।’
একই কমপ্লেক্সে একটি আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় ক্রিকেট গ্রাউন্ড নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তামিম জানান, স্টেডিয়াম নির্মাণে সরকারি অর্থায়নের প্রয়োজন হবে এবং এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।




