বিশ্বকাপে গুজবের সবচেয়ে বড় শিকার আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে গুজবের সবচেয়ে বড় শিকার আর্জেন্টিনা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মাঠের লড়াই যতটা আলোচনায় ছিল, ততটাই আলোচনায় ছিল মাঠের বাইরের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য। পুরো আসর জুড়ে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে রানার্সআপ আর্জেন্টিনাকে ঘিরে। খেলোয়াড়দের মধ্যে গুজবের শীর্ষে ছিলেন লিওনেল মেসি। তার পাশাপাশি লামিন ইয়ামাল, নেইমার জুনিয়র ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে নিয়েও ব্যাপক বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে।

ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মোট ১১৩টি ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২টিই ছিল আর্জেন্টিনাকে নিয়ে, যার প্রায় ৬৫ শতাংশ নেতিবাচক। চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে নিয়ে শনাক্ত হয়েছে ২০টি ভুল তথ্য, যার ৮০ শতাংশই ছিল ইতিবাচক। এ ছাড়া ব্রাজিলকে ঘিরে ১৬টি, মিসরকে নিয়ে ১৪টি এবং পর্তুগালকে নিয়ে ৭টি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুয়া তথ্য ছড়ানোর কৌশলেও এসেছে পরিবর্তন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও, মনগড়া উদ্ধৃতি, ভুয়া ফটোকার্ড, পুরনো ছবি-ভিডিওকে নতুন ঘটনার দাবি করে প্রচার এবং ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টকে সত্য হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা ছিল সবচেয়ে বেশি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি মূলধারার সংবাদমাধ্যমও এ ক্ষেত্রে ভুলের বাইরে থাকতে পারেনি। রিউমর স্ক্যানারের তথ্য বলছে, বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট ২২টি ঘটনায় বাংলাদেশের ৭৮টি গণমাধ্যম মিলিয়ে ১৪৩টি ভুল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

রিউমর স্ক্যানারের পর্যবেক্ষণ বলছে, ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স ছিল এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রধান মাধ্যম। জনপ্রিয়তা ও আবেগকে কেন্দ্র করে বিশ্বকাপকে ঘিরে গুজবের বিস্তার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও সুসংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর রূপ নিয়েছে।

Scroll to Top