
মাদ্রিদ, ২৪ জুলাই – মাঠে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলা কোঁকড়ানো চুলের সেই ফুটবলার মার্ক কুকুরেয়া এখন বিশ্ব ফুটবলের পরিচিত মুখ। স্পেনের এই ডিফেন্ডার সম্প্রতি ইংলিশ ক্লাব চেলসি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন। আগামী মৌসুম থেকে তাকে দেখা যাবে স্প্যানিশ এই জায়ান্ট ক্লাবের জার্সিতে।
গোল করার পর তার স্বতন্ত্র পেঙ্গুইন জাম্প উদযাপনটি মূলত তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। কুকুরেয়ার মতে, পেঙ্গুইন যেমন আজীবন সঙ্গীর প্রতি অনুগত থাকে, তার এই উদযাপনও পরিবারের অটুট বন্ধনকে ফুটিয়ে তোলে।
ব্যক্তিগত জীবনে ২৮ বছর বয়সী কুকুরেয়ার সঙ্গী ক্লডিয়া রদ্রিগেজ এবং তাদের তিন সন্তান মাতেও, রিও ও বেলাকে নিয়ে সাজানো সংসার। সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। তবে মাঠের বাইরে এই ফুটবলারের জীবনটা সবসময় মসৃণ ছিল না।
গ্যালারির গর্জন বা মাঠের উৎসবের আড়ালে তার জীবনে রয়েছে অন্য এক লড়াই। তার বড় ছেলে মাতেও মাত্র তিন বছর বয়সে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে (এএসডি) আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়। বোস্টন চিলড্রেনস হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, অটিজম একটি স্নায়ুবিক বিকাশজনিত অবস্থা যা শিশুর যোগাযোগ ও আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে।
কুকুরেয়া জানান, মাতেও যখন নার্সারিতে যাওয়া শুরু করে, তখন থেকেই তারা লক্ষ্য করেন যে সে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা এবং একা থাকতে পছন্দ করে। কথা না বলা বা ভাববিনিময় করতে না পারার সেই সময়টি ছিল তাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন। ছেলের এই পরিস্থিতি তাকে ধৈর্য ও সহমর্মিতা শিখিয়েছে।
একজন প্রতিষ্ঠিত ফুটবলার হিসেবে নিজের পরিচিতিকে এখন অটিজম সচেতনতায় কাজে লাগাতে চান কুকুরেয়া। তিনি মনে করেন, তার এই উদ্যোগ যদি আরও সহায়তা কেন্দ্র বা স্কুল প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে, তবে সেটিই হবে বড় সার্থকতা। শুরুতে স্কুলের অসহযোগিতা এবং সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হলেও এখন তারা অনেক বেশি সচেতন।
কুকুরেয়া ও ক্লডিয়া জানান, মাতেওর জন্যই তাদের জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত এবং ভ্রমণের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয়। ছেলের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সংবেদনশীলতা নিয়ে কুকুরেয়া বিশ্বাস করেন, ফুটবল মাঠের চেয়েও পরিবারের এই লড়াই তার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এস এম/ ২৪ জুলাই ২০২৬







