মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার অতিক্রম করেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহেই ব্রেন্টের দাম ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে, যা এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক মূল্যবৃদ্ধি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে ডব্লিউটিআইয়ের দামও বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আইএনজির বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো লক্ষণ না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ সংকটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তেলের দামে।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুয়েত ও বাহরাইনও ইরানের হামলার অভিযোগ করেছে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলের একটি অনিরাপদ নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী জাহাজ বিস্ফোরণের ঘটনায় অচল হয়ে পড়েছে। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, সোমবার ওমানের কুমজার এলাকার উত্তর-পশ্চিমে একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে আগের দিন এই সংখ্যা ছিল আটটি। পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।





