বর্ষাকে শুধু গান-কবিতা বা নৃত্যে নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে উদযাপনের এক ভিন্ন আয়োজন দেখা গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায়। ছাতা ছাড়া বৃষ্টিতে ভিজে, শত শত নৃত্যশিল্পী ও দর্শনার্থীর অংশগ্রহণে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘ঘনঘটা’। নান্দনিক এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হলো মানবিকতার বার্তাও, বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ।
বর্ষার সৌন্দর্য, বাংলা সংস্কৃতি ও মানবিকতার বার্তা একসূত্রে গেঁথে শুক্রবার (১৭ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় অনুষ্ঠিত হলো ‘ঘনঘটা’। অর্থি ডান্স একাডেমির আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমী উৎসবে অংশ নেন আড়াই বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে ৬০ বছর বয়সী নৃত্যশিল্পীরা।
সকালের শুরু থেকেই চারুকলার বকুলতলায় ভিড় করতে থাকেন শিল্পী, অতিথি ও দর্শনার্থীরা। সকাল ১১টায় শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় বর্ষাভিত্তিক নৃত্য, গান ও কবিতার সমন্বয়ে সাজানো পরিবেশনা।
আয়োজকরা জানান, বর্ষাকে বরণ করে নেওয়া এবং বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই ‘ঘনঘটা’র আয়োজন। এবারের আয়োজনে প্রায় ৩০০ নৃত্যশিল্পী অংশ নেন। রবীন্দ্রনাথ, নজরুলসহ বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের নানা সৃষ্টির সঙ্গে নৃত্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় বর্ষার রূপ, প্রকৃতি ও আবেগ।
উৎসবের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আকর্ষণ ছিল দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা- ছাতা ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে এবং বৃষ্টিতে একসঙ্গে ভিজেই বর্ষাকে বরণ করতে হবে। আয়োজকদের মতে, প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার এই ভাবনাই ‘ঘনঘটা’র মূল দর্শন।
আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের পোশাকেও ছিল নির্দিষ্ট রঙের সমন্বয়। নারীদের নীল, সবুজ কিংবা সাদা শাড়ি এবং পুরুষদের পাঞ্জাবি পরিধানের আহ্বান জানানো হয়, যা পুরো আয়োজনকে দেয় এক অনন্য নান্দনিক আবহ।
সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি ছিল মানবিক উদ্যোগও। ‘ঘনঘটা’ থেকে বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংগৃহীত অর্থ দেশের বন্যাকবলিত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
নৃত্য, প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং মানবিকতার অনন্য সমন্বয়ে ‘ঘনঘটা’ এবারও হয়ে উঠেছে বর্ষা উদযাপনের এক ব্যতিক্রমী আয়োজন, যা দর্শনার্থীদের কাছে রেখে গেছে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।





