
ব্রাসিলিয়া, ৩ জুলাই – চলমান বিশ্বকাপে মাঠের চেয়ে বেঞ্চেই বেশি সময় কাটছে ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়রের। এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এমনকি নকআউটে জাপানের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও এক সেকেন্ডের জন্য মাঠে নামা হয়নি তাঁর; সাইডবেঞ্চে বসেই সতীর্থদের জয় উপভোগ করতে হয়েছে এই মহাতারকাকে। স্বাভাবিকভাবেই ফুটবল বিশ্বে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—পরবর্তী ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে নেইমারকে কখন মাঠে নামাবেন সেলেসাওদের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি?
নেইমার ভক্তদের এই কোটি টাকার প্রশ্নের অবসান ঘটিয়েছেন খোদ ব্রাজিলিয়ান কোচ। সম্প্রতি বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘ফোলহা দে এস. পাওলো’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নেইমারের বর্তমান পরিস্থিতি ও নরওয়ে ম্যাচের পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
ইনজুরি কাটিয়ে ৯০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত নেইমার!
কাফ ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার পর নেইমার ম্যাচ খেলার মতো পুরো ফিট কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। তবে আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নেইমার এখন পুরো ম্যাচ খেলার জন্য তৈরি।
ব্রাজিল কোচের ভাষায় “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো সে খেলতে পারে। তবে সে ঠিক কতক্ষণ খেলতে পারবে, তা আগে থেকে কেউ জানে না। বড় ম্যাচের চাপ এবং খেলার ছন্দ সামলানোর দারুণ অভিজ্ঞতা তার আছে। যখনই আমি বুঝব যে দলের তাকে প্রয়োজন, তখনই তাকে মাঠে নামাব। আর হ্যাঁ, সে পুরো ৯০ মিনিট খেলার সামর্থ্য রাখে।”
বেঞ্চে বসে থাকা নেইমার কতটা অখুশি?
একজন বিশ্বসেরা তারকা মাঠের বাইরে বসে থাকবেন আর তাতে তাঁর মন খারাপ হবে না, তা তো হয় না। এই মাস্টারমাইন্ড কোচও স্বীকার করেছেন যে নেইমার বেঞ্চে বসে থাকায় একেবারেই খুশি নন। তবে দলে তাঁর আচরণ ও নিবেদন নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ আনচেলত্তি।
পেশাদার আচরণ: আনচেলত্তি বলেন, “সে খুশি নয় ঠিকই, কিন্তু মাঠের বাইরে তার আচরণ অসাধারণ। খুব কঠোর অনুশীলন করছে সে।”
দলের প্রিয় মুখ: কোচের মতে, “নেইমার দলের সবার কাছে ভীষণ প্রিয়, শ্রদ্ধাশীল এবং দয়ালু। সে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, কারণ এত বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও সে ভীষণ বিনয়ী।”
খেলার তীব্র ক্ষুধা: কোচ আরও যোগ করেন, “আমি তার ওপর খুব খুশি। সে সবসময় খেলতে চায়, এটা খুবই স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক বিষয়। কোনো বড় খেলোয়াড়ই কখনো বেঞ্চে বসে থেকে খুশি হতে পারে না। সে মুখে এসে বলবে না যে ‘আমি খেলতে চাই’, কিন্তু তার চোখ-মুখই সেটা বলে দেয়।”
নরওয়ের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে আরও ধারালো করতে নেইমারকে শুরুর একাদশে রাখা হবে, নাকি সুপার-সাব হিসেবে দ্বিতীয়ার্ধে নামানো হবে—সেটা এখন আনচেলত্তির রণকৌশলের ওপরই নির্ভর করছে। তবে নেইমার যে মাঠের নামার জন্য ক্ষুধার্ত বাঘের মতো অপেক্ষা করছেন, তা কোচের কথাতেই স্পষ্ট!
এনএন/ ৩ জুলাই ২০২৬







