
তেহরান, ১ জুলাই – ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অপরাজিত থেকেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ইরানকে। মাঠের খেলায় তাদের লড়াই, দৃঢ়তা এবং একাগ্রতা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই ড্র করে তারা ছিটকে গেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের এই লড়াকু মানসিকতার প্রশংসায় মেতেছেন খোদ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে ইরানের ফুটবলারদের বীরত্বকে কুর্নিশ জানিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট করেছেন তিনি। ফিফা সভাপতি লিখেছেন যে বিশ্বকাপের মতো কঠিন মঞ্চে গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে অপরাজিত থাকাটা এক অনন্য কীর্তি।
এটি বিশ্বমঞ্চে ইরানের অসাধারণ গুণমান এবং দলীয় সংহতির প্রমাণ দেয়। দুর্ভাগ্যবশত এবার পরের পর্বে যাওয়ার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না, তবে মাঠের লড়াইয়ে তাদের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষা সবার নজর কেড়েছে। মন খুলে খেলার জন্য এবং সমর্থকদের গর্বিত করার জন্য ইরান দলকে ধন্যবাদ জানান ইনফান্তিনো।
চলতি বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ সহজ ছিল না। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর তাদের টুর্নামেন্টে খেলা নিয়েই তৈরি হয়েছিল বড় সংশয়। মাঠের বাইরের এমন উত্তাল ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও গ্রুপ জি-তে শক্তিমত্তার পরিচয় দেয় তারা।
যদিও শেষ পর্যন্ত বেলজিয়াম ও মিশরের পেছনে থেকে এবং সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলোর তালিকায় জায়গা করতে না পেরে গ্রুপ পর্বেই থামতে হয় তাদের। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হয়েছিল ইরান। ম্যাচে মোহাম্মদ সালাহর দুর্দান্ত এক শট প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে মাহমুদ সাব্রে গোল করে মিশরকে এগিয়ে নেন।
এর কিছুক্ষণ পর ইরানের মেহেদি তারেমির পেনাল্টি শট মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইব আটকে দিলেও রামিন রেজাইয়ান দুর্দান্ত এক গোল করে ইরানকে সমতায় ফেরান। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন এই রেজাইয়ানই।
তবে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ইরানের করা একটি গোল অফসাইডের কারণে ভিএআর রিভিউতে বাতিল হয়ে গেলে জয়বঞ্চিত হতে হয় তাদের। এক বুক হতাশা আর অপরাজিত থাকার গৌরব নিয়ে দেশে ফিরলেও প্রতিকূলতা জয় করে ইরানের এই ফুটবলীয় লড়াই দীর্ঘদিন মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব।
এস এম/ ১ জুলাই ২০২৬






