জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগের কারণে চলতি মাসের শুরুতে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা জারি করা অ্যানথ্রপিকের ক্লডে শক্তিশালী ‘মিথোস ৫’ (Mythos 5) এআই মডেল সীমিত পরিসরে আবারও ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচিত কিছু প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো সেবাদাতার জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে মার্কিন সরকার।
রোববার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে আরোপিত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার পর লাইসেন্সের শর্ত সংশোধন করে অ্যানথ্রোপিককে তাদের ক্লডে শক্তিশালী ‘মিথোস ৫’ এআই মডেলটি নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানি ও সংস্থার কাছে উন্মুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার তারিখের এক চিঠিতে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক অ্যানথ্রোপিককে জানান, জুনের শুরুতে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা জারির পর কোম্পানিটি ‘কভারড মডেলস’-সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে।
চিঠিতে তিনি বলেন, এ অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নিশ্চিত হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু বিশ্বস্ত অংশীদারকে ‘ক্লড মিথোস ৫’ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান। তবে একই চিঠিতে অ্যানথ্রোপিকের অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী সংস্করণ ‘ফেবল’ উন্মুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এক বিবৃতিতে অ্যানথ্রোপিক জানায়, মার্কিন সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা মডেল মিথোস ৫ আবারও সীমিত পরিসরে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সরবরাহকারীদের ব্যবহারের জন্য মোতায়েন করা যাবে।
কোম্পানিটি আরও জানায়, অনুমোদিত গ্রাহকদের কাছে দ্রুত সেবা পুনরায় চালু করার কাজ চলছে। পাশাপাশি মিথোস ৫-এর ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ এবং ফেবলকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অ্যানথ্রোপিক ও মার্কিন সরকারের মধ্যে আলোচনা সপ্তাহান্তজুড়ে চলতে পারে। আলোচনায় ফেবল মডেলের ব্যবহার পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন সরকারের নির্দেশে অ্যানথ্রপিক বিদেশি নাগরিকদের জন্য মিথোস ও ফেবল, উভয় মডেলের ব্যবহার স্থগিত করে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মীরাও এ মডেলগুলো ব্যবহার করতে পারেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভাবকে সামনে এনেছে। একদিকে এআই প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন এআই খাতে তুলনামূলক শিথিল নীতি অনুসরণ করলেও মিথোস ৫ নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ পরিস্থিতি বদলে দেয়। তাদের আশঙ্কা, এই মডেল হ্যাকার বা সাইবার অপরাধীদের হাতে পৌঁছালে তারা খুব দ্রুত সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত ও অপব্যবহার করতে সক্ষম হবে।
এ কারণেই সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের পাশাপাশি ওপেনএআইকেও তাদের সর্বশেষ মডেলের ব্যবহার সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছিল মার্কিন সরকার।
মার্কিন সরকারের সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের সম্পর্ক আগেও টানাপোড়েনের মুখে পড়ে। চলতি বছরের শুরুতে সামরিক খাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে মতবিরোধের জেরে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘সাপ্লাই চেইন রিস্ক’ হিসেবে চিহ্নিত করে কার্যত কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।
পরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যায় অ্যানথ্রপিক। চলমান মামলায় প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক আইনি সাফল্যও অর্জন করেছে।






