
লিসবন, ১৮ জুন – ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগাল ১-১ গোলে ড্র করার পর থেকেই কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সে এসেও পর্তুগালের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব তার ওপর থাকলেও প্রথম ম্যাচে তিনি নিজের চেনা ছন্দে ছিলেন না।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৪৩টি গোলের অনন্য রেকর্ডের অধিকারী এই তারকা ফুটবলার নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে না পারায় ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েছেন। এমনকি বর্তমান দলে তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
রোনালদোর এই কঠিন সময়ে তিন বছর আগে ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি বিরাট কোহলির দেওয়া একটি সতর্কবার্তা আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিন বছর আগে পিএসজির বিপক্ষে আল-হিলাল ও আল-নাসরের তারকাদের নিয়ে গঠিত রিয়াদ অল-স্টারস দলের হয়ে রোনালদো জোড়া গোল করে দলকে ৪-৩ ব্যবধানে জেতান।
সেই পারফরম্যান্সের পর কোহলি সমালোচকদের কঠোর সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন যে, ৩৮ বছর বয়সেও রোনালদো সর্বোচ্চ স্তরে খেলছেন। যারা কেবল মনোযোগ পাওয়ার জন্য প্রতি সপ্তাহে তার সমালোচনা করেন, এমন পারফরম্যান্সের পর তারা আজ সুবিধাজনকভাবে চুপ হয়ে গেছেন।
এটি অনস্বীকার্য যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বা রিয়াল মাদ্রিদের সেই বিধ্বংসী রোনালদোকে এখন আর দেখা যায় না। তবে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুমেও তিনি আল-নাসরের হয়ে ৩০ ম্যাচে ২৮টি গোল করেছেন যা অনেকের দৃষ্টির আড়ালে থেকে যাচ্ছে।
বর্তমানে তার প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সতীর্থদের সঙ্গে সঠিক বোঝাপড়া তৈরি করা কারণ তার বেশিরভাগ সতীর্থই অনেক বেশি গতিশীল লিগগুলোতে খেলছেন। রোনালদোর মতো একজন কিংবদন্তিকে নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা গেলেও তাকে নিয়ে উপহাস করা অনভিপ্রেত।
এর আগেও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল বিদায় নেওয়ার পর কোহলি রোনালদোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। তিনি রোনালদোকে কঠোর পরিশ্রম ও উৎসর্গের মূর্ত প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। কোহলির মতে, কোনো নির্দিষ্ট ট্রফি বা খেতাব বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে রোনালদোর অবদানকে ম্লান করতে পারবে না।
ক্রিকেট মাঠে যেভাবে কোহলি বারবার সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করেছেন, রোনালদোর মানসিকতাও ঠিক একই রকম। আসন্ন ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবারও নিজেকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রমাণ করার লক্ষে মাঠে নামবেন এই পর্তুগিজ তারকা।
এস এম/ ১৮ জুন ২০২৬







