ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি রোববার (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো কোনো সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে
আইআরজিসির মতে, ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিন হওয়ায় তিনি সম্ভাব্য চুক্তিটিকে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। তাদের ভাষ্য, জন্মদিন উপলক্ষে এটি প্রচারণামূলকভাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকতে পারে।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ওবামা প্রশাসনের সময় ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে যে পারমাণবিক চুক্তি হয়েছিল, তা মূলত দেশটিকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সুযোগ করে দিয়েছিল। ট্রাম্পের দাবি, তার প্রশাসন সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছে এবং বর্তমানে ইরানও আর পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে আগ্রহী নয়।
পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ওবামার চুক্তি বহাল থাকলে ইরান অনেক আগেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হয়ে যেত। বিপরীতে তার প্রশাসনের উদ্যোগে হওয়া নতুন চুক্তি পরমাণু অস্ত্র প্রতিরোধে কার্যকর বাধা হিসেবে কাজ করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমান মার্কিন সম্পর্ক অতীতের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় অনেক বেশি ইতিবাচক।
ট্রাম্প তার পোস্টে ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইরানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন। তিনি বলেন, নতুন চুক্তিতে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের বিষয় থাকবে না।
এ ছাড়া তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং মার্কিন বি-২ বোমারু বিমান ও পাইলটদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পোস্টের শেষাংশে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হোক, সেটিই তার প্রত্যাশা। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।





