জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে অগ্রগতির স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ | চ্যানেল আই অনলাইন

জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে অগ্রগতির স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ | চ্যানেল আই অনলাইন

জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন একটি প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেশের জাতীয় এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) টিকাদান কর্মসূচিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোববার ১৭ মে জেনেভায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী কমনওয়েলথ হেলথ কোঅর্ডিনেশন ফোরামে ‘কমপেনডিয়াম অব কেস স্টাডিস অন সারভিক্যাল ক্যান্সার এলিমিনেশন’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার থেকে সুরক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয় পর্যায়ে এক ডোজের এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। কর্মসূচির প্রথম ধাপে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ঢাকা বিভাগে ১৫ লাখের বেশি মেয়েকে টিকা দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয় ধাপে দেশের অন্যান্য বিভাগে ৬২ লাখের বেশি মেয়েকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এমএ মুহিত। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকার ও রোশ ডায়াগনস্টিকসের সহযোগিতায় প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে কমনওয়েলথভুক্ত ১২টি দেশের জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নির্মূল কার্যক্রমের কেস স্টাডি তুলে ধরা হয়েছে। এতে আর্থিক সংকট ও স্বাস্থ্য বৈষম্যের মধ্যেও টিকাদান, স্ক্রিনিং, চিকিৎসা ও জনসচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশগুলো কীভাবে অগ্রগতি অর্জন করছে, তা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি ফলো-আপ ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এটিকে বৃহৎ পরিসরের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা এইচপিভিভিত্তিক স্ক্রিনিং ও ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কভারেজ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া সংগঠিত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা ও জাতীয় রেজিস্ট্রির মাধ্যমে জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এছাড়া বেলিজ, ফিজি, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া ও জাম্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।

এক ভিডিও বার্তায় গায়ানার প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ ইরফান আলী বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলের লক্ষ্য অর্জনে কোনো একক দেশের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। এজন্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আরও গভীর সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রতিবেদনের পাশাপাশি ফার্স্ট লেডি, রাষ্ট্রপ্রধানদের সহধর্মিণী ও অংশীদারদের জন্য একটি ‘সার্ভিক্যাল ক্যান্সার অ্যাডভোকেসি টুলকিট’ও উপস্থাপন করা হয়।

কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে বলেন, ফার্স্ট লেডিরা জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। নারীর স্বাস্থ্য, সমতা ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিলে প্রতিরোধযোগ্য রোগে নারীর মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ফোরামের চেয়ারম্যান ও গায়ানার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী লেসলি রামসামি বলেন, জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা শক্তিশালী করা, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা ও উপশমমূলক সেবার সুযোগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

এদিকে,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও)-এর সহকারী মহাপরিচালক ড. জেরেমি ফ্যারার বলেন, ক্যান্সার মোকাবিলায় প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাকে সমন্বিতভাবে দেখতে হবে এবং স্বাস্থ্যসেবাকে সবার জন্য সহজলভ্য করতে হবে। ফোরামে ক্যান্সার চিকিৎসার অর্থায়ন, জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় ক্যান্সারসেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। ফোরাম থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো ভবিষ্যৎ কমনওয়েলথ স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

Scroll to Top