৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া সুইজারল্যান্ডের সামনে এবার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও লিওনেল মেসিদের হারানো অসম্ভব নয় বলেই বিশ্বাস সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিনের।
আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই দল। শেষ ষোলোতে নাটকীয়ভাবে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল। অন্যদিকে, গোলশূন্য ১২০ মিনিটের পর টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয় সুইজারল্যান্ড।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ইয়াকিন বলেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলাটা তাদের জন্য বিশেষ এক চ্যালেঞ্জ হলেও ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলাটা বিশেষ একটি সুযোগ। তবে আর্জেন্টিনা অপরাজেয় নয়। অবশ্যই আমরা তাদের হারানোর চেষ্টা করব। আমরা দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর মানসিকতা সম্পর্কে জানি।’
তবে দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ প্রতিপক্ষকে নিয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, আর্জেন্টিনা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল এবং তাদের বিপক্ষে সেরা ফুটবলটাই খেলতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত একটি দল। তাদের দলে অনেক শক্তিশালী খেলোয়াড় রয়েছে, একজন ভালো কোচ আছেন এবং আমরা জানি তারা কীভাবে খেলে। তাদের দলে বিশ্বের সেরা ফুটবলার মেসিও আছে।’
চলতি বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের জন্য আরেকটি বড় চিন্তার নাম ইয়োহান মানজাম্বি। তিন গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরোয়ার্ড অনুশীলনে হাঁটুতে চোট পাওয়ায় কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারেননি। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তাকে নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।
মানজাম্বির অবস্থা নিয়ে ইয়াকিন বলেন, ‘এ ধরনের চোট থেকে অল্প সময়ে সেরে উঠে না। ঠিক কী ধরনের চোট পেয়েছে, সেটাও আমরা এখনও নিশ্চিত নই। যদি সে খেলতে পারে, তাহলে অবশ্যই তাকে খেলাব। তবে কোনো ধরনের ঝুঁকিও নিতে চাই না।’
এরই মধ্যে চোটের কারণে মিশেল এবিশার ও লুকা ইয়াকেজকেও পাচ্ছে না সুইসরা। ফলে আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে পূর্ণ শক্তির দল নামানো নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সু্ইচরা।





