
ঢাকা, ১৮ মে – বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত নির্মিত বাস র্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পের অবকাঠামোকে সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার সুপারিশ করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় গঠিত দুটি কমিটি। প্রকল্পটির নকশাগত ত্রুটির জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে গত বছরের আগস্টে এই দুই কমিটি গঠন করা হয়।
তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি রিভিউ কমিটিও একই ধরনের মতামত প্রদান করেছে। কমিটির এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে করিডোরটি বিআরটি ব্যবস্থার বদলে সব ধরনের যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। আর নির্মাণ ব্যয় তুলে আনতে এই সড়ক ব্যবহারকারী যানবাহন থেকে টোল আদায় করা হতে পারে।
এদিকে বিআরটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদের সভায় উপস্থাপনের পরিকল্পনা করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিআরটি হলো বাসের জন্য বিশেষ লেনভিত্তিক ব্যবস্থা যা সাধারণত মেট্রোরেলের মতো যানজটহীন যাতায়াত সুবিধা দেয়। ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের মধ্যে এই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০১২ সালে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
প্রায় ৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এখন পর্যন্ত বিআরটির ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে নকশাগত জটিলতার কারণে বর্তমানে প্রকল্পটি সাধারণ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার কথা ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা। রিভিউ কমিটির প্রতিবেদনে বিআরটি করিডোরে নকশাগত ত্রুটির জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের দায়ী করা হয়েছে।
বিপুল অর্থ অপচয়ের জন্য তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনারও সুপারিশ করা হয়েছে। এই অবকাঠামো বাস্তবায়নের মূল দায়িত্বে ছিল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটিতে বিদেশি পরামর্শক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার এসএমইসি ইন্টারন্যাশনাল, ফ্রান্সের সিস্ট্রা এসএ এবং বাংলাদেশের এসিই কনসালট্যান্স লিমিটেড যুক্ত ছিল।
নকশাগত সমস্যার আশঙ্কায় বুয়েট ও ভারতের সিইপিটি বিশ্ববিদ্যালয় পরবর্তীতে এই প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক জানান, অপারেশনাল মডেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার মতে প্রকল্পের অনেক অংশ বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল এলাকা বিআরটির জন্য উপযুক্ত নয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে সরকার চাইলে এই প্রকল্প থেকে আয় নিশ্চিত করতে টঙ্গী এলাকায় টোল প্লাজা স্থাপন করতে পারে। এতে বিআরটি লেনটি একটি উন্নত দ্রুতগতির সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হবে যা ঋণ পরিশোধে সহায়ক হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন, প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এস এম/ ১৮ মে ২০২৬






