
ঢাকা, ৩০ এপ্রিল – জাতীয় সংসদের সরঞ্জাম কেনাকাটা নিয়ে ওঠা আর্থিক অনিয়ম ও হরিলুটের অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি।সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশের পর গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে আলোচিত এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় কোনো অপচয় বা আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি।
বৃহস্পতিবার হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তীতে সংসদ ভবনের টানেলে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে কিছু গণমাধ্যমে তিনটি ক্যামেরা লেন্সের দাম ৩৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা দাবি করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এর মূল্য ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার ১০০ টাকা। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক এই তথ্যগত ভুলটিকে মুদ্রণজনিত ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন।
এছাড়া তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ক্রয়কৃত পণ্যে নির্ধারিত ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো সঠিকভাবে পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা অনুসরণ করেই আন্তর্জাতিক বাজারদর ও করসহ যৌক্তিক মুনাফা বিবেচনায় দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কার্যাদেশে ক্যামেরার উৎপত্তিস্থল জাপান উল্লেখ থাকলেও থাইল্যান্ডে তৈরি পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যথাযথ লিখিত অনুমোদন না থাকাকে কমিটি একটি প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
উল্লেখ্য ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সংসদের গণসংযোগ শাখার যন্ত্রপাতি জরুরি ভিত্তিতে প্রতিস্থাপনের জন্যই এই কেনাকাটা সম্পন্ন করা হয়েছিল।
এর আগে সরঞ্জাম কেনাকাটায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের খবর প্রকাশিত হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
এনএন/ ৩০ এপ্রিল ২০২৬






