বাংলাদেশে এন্ডোমেট্রিওসিসের ঝুঁকি নির্ধারণে ভ্যালিডেশন ও ফলাফল প্রকাশ | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশে এন্ডোমেট্রিওসিসের ঝুঁকি নির্ধারণে ভ্যালিডেশন ও ফলাফল প্রকাশ | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যের একটি অবহেলিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো এন্ডোমেট্রিওসিস। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী, হরমোন-নির্ভর রোগ, যা তীব্র ঋতুকালীন ব্যথা, বন্ধ্যাত্ব এবং জীবনমানের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটাতে পারে।

বিশ্বব্যাপী প্রজননক্ষম বয়সী প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে প্রায় ১ জন এই রোগে আক্রান্ত। এত ব্যাপকতা থাকা সত্ত্বেও এ রোগ নির্ণয়ে সাধারণত ৬ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিলম্ব ঘটে, যা একটি বড় ক্লিনিক্যাল ও জনস্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে।

এই প্রেক্ষাপটে আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টারে বাংলাদেশ এন্ডোমেট্রিওসিস এবং এডিনোমায়োসিস সোসাইটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো “বাংলাদেশে এন্ডোমেট্রিওসিসের প্রাথমিক ঝুঁকি নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সমৃদ্ধ স্ক্রিনিং টুলের উন্নয়ন ও ভ্যালিডেশন” শীর্ষক একটি ফলাফল উপস্থাপন ও ডিসেমিনেশন সেমিনার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার, অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম, সভাপতি, অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) এবং আব্দুল মুক্তাদির, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

এছাড়াও দেশের খ্যাতনামা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং নীতিনির্ধারকরা উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

এ প্রোগ্রামে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড সাইনটিফিক পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল এবং সংশ্লিষ্ট সোসাইটির সঙ্গে যৌথভাবে অ্যাপটি উন্নয়ন ও ট্রায়াল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

গবেষণায় একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর স্ক্রিনিং টুল তৈরি ও যাচাই করা হয়েছে, যা প্রাথমিক পর্যায়ে এন্ডোমেট্রিওসিসের ঝুঁকি নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে। এই স্মার্ট টুলটি রোগীর উপসর্গ, ক্লিনিক্যাল তথ্য এবং ঝুঁকির কারণ বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করতে সক্ষম। স্মার্টএন্ডো ৯১.০% সংবেদনশীলতা (Sensitivity), ৯৪.৮% সুনির্দিষ্টতা Specificity) এবং ৯৩.০% সামগ্রিক নির্ভুলতা (Accuracy) অর্জন করেছে।

অ্যাপটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই ব্যবহার করা যাবে। এটি ব্যবহার করে ৩-৫ মিনিট সময়ের মধ্যেই যাচাই করা যাবে যে, ব্যবহারকারীর এন্ডোমেট্রিওসিস হওয়ার ঝুঁকি আছে কিনা।

গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশে এন্ডোমেট্রিওসিস নির্ণয়ে গড়ে বহু বছর সময় লেগে যায়। আমাদের এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর টুলটি প্রাথমিক পর্যায়ে ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারলে দ্রুত রেফারেল ও চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে।”

Scroll to Top