
ঢাকা, ২৪ এপ্রিল – মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হয়নি বাংলাদেশের। এই ঘটনার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কূটনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। গত ৩ জানুয়ারি আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়ার পর বিসিবি আইসিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
তবে ওই রাতেই আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরাপত্তা ইস্যু তুলে ধরে বাংলাদেশ দলের ভারত সফর না করার পক্ষে মত দেন। পরবর্তীতে ১৩ জানুয়ারি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বিসিবিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে ভারতে না যাওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। সচিব মাহবুব উল আলম স্বাক্ষরিত সেই চিঠিতে বলা হয় যে ভারত ছাড়া অন্য কোনো ভেন্যুতে খেলা হলেই কেবল সরকারি সহায়তা মিলবে। বিসিবির তৎকালীন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু স্থানান্তরের জন্য আইসিসিকে প্রস্তাব দিলেও সদস্য দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হয়।
ফলে ভোটাভুটির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে। বিসিবির সাবেক পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম মনে করেন যে আসিফ নজরুলের একরোখা সিদ্ধান্তের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে কোনো আলোচনা ছাড়াই উপদেষ্টা ফেসবুকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তোলেন। এদিকে বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন।
অন্যদিকে সাবেক পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম মনে করেন যে এর পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য কাজ করে থাকতে পারে। সাবেক আম্পায়ার ইফতেখার রহমান উপদেষ্টার এই পদক্ষেপকে চরম অপেশাদারিত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন যে দেশের ক্রিকেটের এই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের কারণ খুঁজতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন যে ভবিষ্যতে যেন কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের কারণে দেশের ক্রীড়াঙ্গন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করা জরুরি। আসিফ নজরুলের জেদে একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট বিসর্জন দেওয়া দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এস এম/ ২৪ এপ্রিল ২০২৬





