তেহরান, ১৭ মার্চ – ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ আগামী জুন মাস পর্যন্ত গড়ালে বিশ্বজুড়ে আরও প্রায় চার কোটি পঞ্চাশ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বা ডব্লিউএফপি।
মঙ্গলবার সংস্থাটির প্রকাশিত এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কারণে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা সরবরাহের পথগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংকটাপন্ন অঞ্চলে জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।
ডব্লিউএফপির উপনির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ জেনেভায় সাংবাদিকদের জানান চলমান অস্থিরতায় খাদ্য, জ্বালানি এবং পরিবহন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে নতুন করে আরও বিপুল সংখ্যক মানুষ চরম ক্ষুধার মুখে পড়তে পারে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্বে মোট ক্ষুধাগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বর্তমান রেকর্ড ৩১ কোটি ৯০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। বৈশ্বিক ক্ষুধার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে তিনি সতর্ক করেন যা অত্যন্ত ভয়াবহ একটি পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
কার্ল স্কাউ আরও বলেন এই যুদ্ধ শুরুর আগেই বিশ্ব এক ধরনের সংকটের মধ্যে ছিল যেখানে ক্ষুধার মাত্রা সংখ্যা ও গভীরতা উভয় দিক থেকেই সর্বোচ্চ অবস্থায় ছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর পর থেকে ডব্লিউএফপির পরিবহন ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের সরবরাহের স্বাভাবিক পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হতে হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন এই অতিরিক্ত ব্যয় এমন এক সময়ে যোগ হয়েছে যখন বিভিন্ন দাতা দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে বেশি জোর দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এনএন/ ১৭ মার্চ ২০২৬







