ফিলিস্তিনিদের জন্য খাজার লড়াই ক্রিকেটে আরও যেসব ঘটনা মনে করাচ্ছে

ফিলিস্তিনিদের জন্য খাজার লড়াই ক্রিকেটে আরও যেসব ঘটনা মনে করাচ্ছে

২০১৯ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাপ পরে খেলেতে নেমেছিলেন বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মারা। সে বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতের নিরাপত্তাকর্মীদের বহনকারী গাড়িবহরে হামলা চালায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদ। এ ঘটনায় ভারতের আধাসামরিক বাহিনীর ৪০ সদস্য নিহত হন। দেশপ্রেমের নিদর্শনস্বরূপ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাই সেনাবাহিনীর ক্যাপ পরে খেলেন কোহলিরা। সশস্ত্র বাহিনীকে শ্রদ্ধা জানাতে ম্যাচ ফির পুরোটা দানও করে দেন।

সেনাবাহিনীর ক্যাপ পরে খেলার ভাবনা সর্বপ্রথম মহেন্দ্র সিং ধোনির মাথায় এসেছিল। ভারতের সাবেক অধিনায়ক দেশটির সেনাবাহিনীর অবৈতনিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল। উইকেটকিপিংয়ের সময়ও ধোনি সেনাবাহিনীর নকশাকৃত গ্লাভস পরতেন। আর ওই দিন ম্যাচটাও হয়েছিল তাঁর জন্মশহর রাঁচিতে। তবে ম্যাচের পরদিনই পাকিস্তান সরকার খেলার সঙ্গে রাজনীতি মেশানোর অভিযোগ এনে ধোনিদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে এবং আইসিসিকে এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। আইসিসি তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ না নিলেও ওই বছরের শেষ দিকে ধোনিকে সেনাচিহ্নিত গ্লাভস খুলে অন্য গ্লাভস পরে খেলতে বলেছিল।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরের পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড মারা গেলে বিশ্বজুড়ে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ বা ‘কৃষ্ণাঙ্গরাও মানুষ’ আন্দোলন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চৌভিন প্রকাশ্যে রাজপথে গলায় হাঁটু চেপে ধরে ফ্লয়েডকে হত্যা করায় খেলার মাঠেও হাঁটু গেড়ে প্রতিবাদ জানানো শুরু হয়। করোনাকালে সে বছরের জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইংল্যান্ড সফর দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে ফেরে। ক্রিকেটে হাঁটু গেড়ে প্রতিবাদ ওই সিরিজ দিয়েই শুরু হয়।

গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অস্ট্রেলিয়া সফরেও ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে পার্থ টেস্ট শুরুর আগে হাঁটু গেড়ে বসেন ডেভিড ওয়ার্নার-স্টিভেন স্মিথরা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার অনেক সমর্থক ওয়ার্নার-স্মিথদের এ কর্মকাণ্ডকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁরা ক্রিকেটারদের রাজনীতি ছেড়ে খেলায় মনোযোগী হতে বলেন। পরে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যান্ট কামিন্স জানান, সম–অধিকারের সমর্থনে তাঁর দল হাঁটু গেড়ে বসেছে।

এ বছরের জানুয়ারিতে তালেবান–শাসিত আফগান সরকারের বিরুদ্ধে নারীদের অধিকার হরণের অভিযোগ তুলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ বাতিল করে অস্ট্রেলিয়া। নারীদের প্রতি ‘অগ্রহণযোগ্য’ আচরণের প্রতিবাদ হিসেবে সিরিজ বর্জন করায় কামিন্সের দলের প্রশংসাও করেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী আনিকা ওয়েলস।

Scroll to Top