নারীর মর্যাদা রক্ষায় সরকারি-বেসরকারিভাবে ঘটা করে বিভিন্ন দিবস, সভা-সেমিনার করা হলেও মাঠ পর্যায়ে নেই তার কোন প্রতিফলন। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বেতন বৈষম্য দূরীকরণে নেই কোন পদক্ষেপ। উত্তরের জেলা নীলফামারীতে কৃষি কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা মাঠে কাজ করলেও রয়েছে মজুরি বৈষম্য। ধান মাড়াই, আলু উত্তোলনসহ বিভিন্ন কৃষি কাজে নারীদের কদর বাড়লেও পুরুষেরা দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা মজুরি পায় সেখানে নারীদের মজুরি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, নীলফামারীর পুটিমারি এলাকার আলু উত্তোলনের কাজ করছে কয়েকজন নারী। মাঠে দেখা যায় তাদের কাজের মহোৎসব। মাঠে কাজ করা নারীদের অধিকাংশেরই পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই।
জানা যায়, নারী শ্রমিক দিয়ে আলু রোপন, ধানের বিজতলা তৈরী, পরিচর্যা হোটেল কিংবা বাসা বাড়িতে সর্বত্র তাদের কদর বেড়েছে। অপরদিকে অর্ধেক মজুরিতে নারী শ্রমিক পাওয়ায় মালিক-কৃষক ঝুঁকছেন সেই দিকে। নারীরা পুরুষের সমান কাজ করলেও ন্যায্য মজুরি পায় না বলে জানান তারা। নারীদের হাতে কৃষির উন্নতি হলেও তারা মজুরিতে অবহেলিত। মজুরি কম ও বৈষম্যের কারণে এখানকার নারীরা ক্ষোভ জানিয়েছেন।
আলু উত্তোলন করা রাবেয়া নামে এক শ্রমিক বলেন, ভোরে এসেছি আলু তোলতে সারাদিন কাজ করে আমরা ২০০ টাকা পাই। আমাদের সাথে পুরুষেরা কাজ করে ৪০০ টাকা পায়। সবাই একই কাজ করি তবুও আমাদের মজুরি অনেক কম। স্বামীর উপার্জনে সংসার তেমন চলে না এজন্য আমিও কাজে এসেছি।
টেংগনমারী এলাকার খালেদা বেগম বলেন, মাঠে সব ধরনের কাজ করি পুরুষেরা মজুরি বেশি পায়। আমরা পুরুষের তুলনায় বেশি সময় ধরে কাজ করি। কাজের মধ্যে পুরুষেরা বিশ্রামের বিরতি নিলেও আমরা তেমন বিশ্রাম নেই না। কিন্তু পুরুষ শ্রমিকরা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মজুরি পেলে আমরা পাই ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার সুবিত্রা রানী রায় বলেন, স্বামী অনেক আগে মারা গেছে। আমার সংসারে আয় করার মত কেউ নাই তাই কাজ করে কোনমতে সংসার চালাই। একটু বেশি মজুরি পেলে ভালো হতো।
কৃষক সাত্তার জানায়, কাজে নারী শ্রমিক নিলে অল্প টাকায় কাজ করা যায়৷ তারা মনোযোগ দিয়ে কাজ করে পুরুষের থেকে কম দামে তাদের পাওয়া যায়। আমরা কম দামে যাকে পাব তাকে কাজে নিব। এতে আমাদের কাজ হবে আর টাকাও কম খরচ হবে।
এ বিষয়ে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনিসুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, সরকারি কাজ টিআর, কাবিখা, কর্মসৃজনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে নারী পুরুষের সমান মজুরি দেওয়া হয়। বেসরকারি ও মালিকানাধীন কাজেও নারী পুরুষের সমান মজুরি বৈষম্য দূর করার চেষ্টা করছি।




