চুয়াডাঙ্গায় টিসিবির পণ্যে নিম্নমানের চাল বিতরণ ও এক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জেলার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন পষিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলার রকি ও জিহাদ হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে টিসিবির পণ্য বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। পণ্য বিতরণ করছিলেন ডিলার আয়ান মুদি স্টোরের মালিক রকি ও জিহাদ মুদি স্টোরের মালিক জিহাদ হোসেন।
সেই সময় টিসিবির পণ্য নিতে পরিষদে যান রসনা বেগম নামের এক নারী। তিনি প্যাকেটে তেলের বোতল না পেয়ে ডিলারের কাছে অভিযোগ করলে শুরু হয় বাগবিতণ্ডা। একপর্যায়ে ডিলার জিহাদ হোসেন ওই নারীকে চড় মেরে বের করে দেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, টিসিবির পণ্যে যে চাল দেওয়া হয়েছে, তা খুবই নিম্নমানের। এমন চাল গরুকেও খাওয়ানো হয় না। বাধ্য হয়ে তারা দুর্গন্ধযুক্ত চালের ভাত খাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী রসনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘শনিবার মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদে টিসিবির পণ্য আনতে গিয়েছিলাম। আমি মোট তিনজনের কার্ড নিয়ে গিয়েছিলাম। পরিষদে আমাকে পণ্য দেওয়ার পর নিচে নেমে দেখি আমার প্যাকেটে তেলের বোতল নেই। পরে আমি ডিলার জিহাদের কাছে গিয়ে তেলের বোতলের কথা বললে সে বলে, তেল দিয়েছে। অথচ আমি তেলের বোতল পাইনি। পুনরায় তাকে তেলের কথা বললে সে গালাগালি শুরু করে এবং আমার পিঠে চড় মেরে নিচে নামিয়ে দেয়।’
প্রত্যাক্ষদর্শী মনোহরপুর ইউনিয়নের সাবেক নারী মেম্বার হাবিবা খাতুন জানান, ‘চাচী (রসনা বেগম) ওদের কাছে যেয়ে বলছে, আমি তেল পাইনি। আর ওই লোকটা (জিহাদ) খুব গালাগালি করেছে। অনেক গালাগালির পর চাচী সেখান থেকে সরনি। সেই সময় জিহাদ চাচীর পিঠে চড় মারে। পরে চাচী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারিকে বিষয়টি জানায়। ওনি কথা বললেও তেল দেয়নি। তেল না দিয়েই চলে গেছে।’
আরেক প্রত্যাক্ষদর্শী হামিদুর রহমান জানান, ‘টিসিবির পণ্য দেওয়ার সময় আমার চাচীর সাথে ঝগড়া-গন্ডগোল হচ্ছিলো, গালাগালি হচ্ছিলো। হাতাহাতিও হয়েছে। আমি যেয়ে বাঁধা দিয়েছি। পরে পুলিশের ভয় দেখালে আমরা চলে এসেছি।’
এ ঘটনায় টিসিবির পণ্য বিতরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ট্যাগ অফিসার আকিমুল ইসলাম জানান, ‘এমন একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দিয়েছি।’
নারীকে চড় মারার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমি বাইরে ছিলাম। হট্টগোল দেখে ভেতরে গিয়েছিলাম। সে সময় এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। তবে আমি যাওয়ার আগে কী হয়েছে, তা আমি জানি না।’
নিম্নমানের চাল বিতরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চাল আমিও দেখেছি যে, এটা নিম্নমানের। এখানে আমার কিছুই বলার নেই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডিলার রকি বলেন, ‘ওই নারী তেল পাইনি, এমন অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে আসে। আমরা বলেছি যে, তেল দেয়া হয়েছে। তারপরও ওই নারী না শুনলে বলেছি, পণ্য বিতরণ শেষে তেলের বোতল থাকলে দেওয়া হবে।’
ওই নারীকে চড় মারার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এমন কোনও ঘটনা সেখানে ঘটেনি।
ডিলার জিহাদ হোসেন বলেন, ‘ওই নারীকে চড় মারা হয়নি। বাগবিতন্ডার একপর্যায়ে একটু ধাক্কা দিয়েছি মাত্র। এটা তেমন গুরুতর কিছু না, যে নিউজ করতে হবে।’
নিম্নমানের চাল বিতরণের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে যে চাল আসে, সেটাই আমরা বিতরণ করি। এখানে বাইরে থেকে চাল নিয়ে এসে বিতরণের কোনও সুযোগ নেই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, ‘আমি দুজন ডিলারসহ উভয়পক্ষকে ডেকে ছিলাম। মূলত ঘটনা হচ্ছে, ওই নারী তিন জনের পণ্য উঠানোর পরে আরও কার্ড নিয়ে যান। কিন্তু, ওই সময় তেল ছিল না। তাকে বলা হয় যে তেল পরে দিবে। এসময় ওই নারীর ট্যাংরা নামের একজন এসে ডিলারকে চড় মারে। পরে ডিলার ওই নারীকে হাত দিয়ে সরিয়ে দেয়। বিষয়টি সাথে সাথেই ওখানে নিষ্পত্তি করা হয়। এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি।’
নিম্নমানের চাল বিতরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে কেউ কোনও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’



