সাকিবের দেশে ফেরার ‘আর কোনো সুযোগ নেই’: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

সাকিবের দেশে ফেরার ‘আর কোনো সুযোগ নেই’: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সাকিবের দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় সরকার আর নমনীয় অবস্থান দেখাবে না বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে তিনি দেশে ফিরতে প্রস্তুত। সাকিব আরও বলেন, দেশের মাটিতে বিদায়ী সিরিজ খেলার পাশাপাশি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁর।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশে ফেরেননি সাবেক এই অলরাউন্ডার। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার একটি ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা আবারও তীব্র হয়। শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হওয়ার পর সাকিবকে স্বৈরাচারের সহযোগী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সাকিবের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, সরকার এতদিন বিষয়টি সহনশীলভাবে বিবেচনা করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগ আর নেই।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আর কোনো সুযোগ নেই। সাকিব আল হাসান একজন ক্রিকেটার হিসেবে তার অবস্থান থেকে সরে গিয়ে পুরোপুরি রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন। আমার মনে হয়, তার আর দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। আর যদি ফেরেনও, তাহলে তা হবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।’

প্রতিমন্ত্রীর বলেছেন, এতদিন সরকার সাকিবের বিষয়টি নমনীয়ভাবে বিবেচনা করছিল কিন্তু সাকিবের অবস্থানের পর পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা এতদিন বিষয়টি অনেক নমনীয়তা ও সহনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করছিলাম। কিন্তু এরপর আর সেভাবে ভাবার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। যে ব্যক্তি একজন স্বৈরশাসকের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন, আমার মতে তার আর ফেরার সুযোগ নেই। আমরা তাকে একজন ক্রিকেটার হিসেবেই দেখছিলাম, তাই কিছুটা নমনীয় ছিলাম। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই।’

এদিকে, রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেছেন দেশে ফেরার বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও কথা বলতে চান তিনি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে, সাবেক এই অধিনায়কের দেশে ফেরার পথ এখন রাজনৈতিক ও আইনি—উভয় দিক থেকেই জটিল হয়ে উঠেছে।

Scroll to Top